ইসরায়েলের কঠোর হুমকি ও বাধা সত্ত্বেও গাজার উদ্দেশে এগিয়ে যাচ্ছে ক্ষুধার্ত বাসিন্দাদের জন্য ত্রাণবাহী জাহাজ বহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’।

বুধবার স্থানীয় সময় সকালে বহরের এক কর্মী, প্রোগ্রেসিভ ইন্টারন্যাশনালের সহসাধারণ সমন্বয়কারী ডেভিড অ্যাডলার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান—ফ্লোটিলা ইতোমধ্যে গাজা থেকে মাত্র ১২০ নটিক্যাল মাইল (২২২ কিমি) দূরে অবস্থান করছে এবং ইসরায়েলের নৌবাহিনী ঘেরাও করার চেষ্টা করছে। তিনি সতর্ক করেন, “এটাই হয়তো আমার শেষ চিঠি।”

ইসরায়েলের প্রস্তুতি-

ইসরায়েলি গণমাধ্যম ওয়াইনেট জানিয়েছে, ফ্লোটিলা ঠেকাতে আশদোদ বন্দরে মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ৫০০ পুলিশ সদস্য। প্রস্তুত রাখা হয়েছে হাসপাতাল। নৌবাহিনীর এলিট স্পেশাল ফোর্স শায়েতেত-১৩ জাহাজগুলো নিয়ন্ত্রণ নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যাত্রীদের কেউ আদেশ না মানলে তাদের গ্রেপ্তার বা এমনকি জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

কর্মীদের শঙ্কা-

ফ্লোটিলায় থাকা বিভিন্ন কর্মী জানিয়েছেন—

রাতভর জাহাজগুলোকে ঘিরে ভয় দেখানো হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ও লাইভস্ট্রিম অচল করে দেওয়া হয়েছিল। কিছু জাহাজ আলো নিভিয়ে ঘেরাও করেছে। ক্রুরা আতঙ্কে রাত জেগে কাটিয়েছেন। ফ্লোটিলার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তুরস্কের নৌবাহিনী সহায়তা দিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া-

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ফ্লোটিলার সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রো উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পোপ লিও চতুর্দশ বলেছেন, “মানবিক মিশনে সহিংসতা মেনে নেওয়া যাবে না।”

জাহাজে আছেন ৪৪টি দেশের ৪৯৭ জন যাত্রী, যাদের মধ্যে রয়েছেন পরিবেশ আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থানবার্গ ও নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি মান্ডলা ম্যান্ডেলা।

সর্ববৃহৎ সামুদ্রিক মিশন-

গত ৩১ আগস্ট স্পেন থেকে যাত্রা করা ফ্লোটিলা এখন পর্যন্ত গাজার উদ্দেশে পাঠানো সবচেয়ে বড় মানবিক মিশন। এতে রয়েছে ৪৪টি জাহাজ ও প্রায় ৫০০ যাত্রী। জুন ও জুলাইতে গাজায় প্রবেশের দুটি প্রচেষ্টা ইসরায়েল আটকে দিয়েছিল। সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা