বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) অধিভুক্ত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষক সংকট, ল্যাব সরঞ্জামের অচলাবস্থা ও অতিরিক্ত ফি শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা ও চাকরির সুযোগও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
দেশের মোট ১০টি সরকারি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজেই একই ধরনের সংকট বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সময়মতো পরীক্ষা ও ফলাফল প্রকাশ হয় না, সেমিস্টার ও রিটেক ফি অস্বাভাবিকভাবে বেশি—যা শিক্ষাজীবনে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
সম্প্রতি বরিশাল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা সাত দফা দাবিতে ক্যাম্পাসে তালা ঝুলিয়ে ‘অল শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করেন এবং বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কুশপুত্তলিকা দাহ করেন। একই দাবিতে জামালপুর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরাও আন্দোলনে অংশ নেন।
বেগমগঞ্জ কলেজের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান বলেন, “আমাদের কলেজে মাত্র দশজন স্থায়ী শিক্ষক আছেন। বেশিরভাগ ক্লাস অতিথি শিক্ষকের মাধ্যমে চলছে। সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই। বাজেটও পর্যাপ্ত নয়।”
রংপুর কলেজের শিক্ষার্থী নাছিম উদ্দিন বলেন, “৬০ জন শিক্ষকের প্রয়োজন হলেও আছেন মাত্র ১৩ জন। এর মধ্যে বিএসসি ডিগ্রিধারী মাত্র ৩ জন। গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার সুযোগও সীমিত।”
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইয়ার্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও কলেজ পরিদর্শক ড. মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “অধিভুক্ত কলেজগুলোতে দ্বৈত প্রশাসন চলছে। ক্লাস ও পরীক্ষার তদারকি করে বুটেক্স, কিন্তু শিক্ষক নিয়োগ ও বাজেট বরাদ্দ বস্ত্র মন্ত্রণালয় ও পিএসসির অধীনে। তাই এসব বিষয়ে বুটেক্সের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেই।”
তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রেজাল্ট প্রকাশের প্রক্রিয়া দ্রুত করা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ে মার্কশিট দেওয়ার কাজও সম্পন্ন হবে।
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৫, ৯:৫৭ অপরাহ্ণ