আওয়ামী লীগ শাসনামলে গুম, অপহরণ, নির্যাতন, খুন এবং জুলাইয়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক তিন মামলায় কারাগারে পাঠানো ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে ঢাকা সেনানিবাসে স্থাপিত সাবজেলে রাখা হবে।
বুধবার সকালে আদালতে আত্মসমর্পণের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন।
তিনি বলেন,
> “আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সেনা কর্মকর্তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। ৮ অক্টোবর তিন মামলায় ট্রাইব্যুনাল থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। এরপর সেনা কর্তৃপক্ষ তাদের হেফাজতে নেয়। আজ নির্ধারিত তারিখে তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।”
ব্যারিস্টার সারোয়ার আরও জানান, আত্মসমর্পণের পর আদালতে তিনটি আবেদন করা হয়েছে— জামিন আবেদন, প্রিভিলেজ কমিউনিকেশন আবেদন, সাবজেলে রাখার আবেদন।
তিনি বলেন,
> “জামিনের শুনানি হবে আগামী ২০ নভেম্বর। সাবজেল সংক্রান্ত বিষয়টি জেল কর্তৃপক্ষ দেখবেন। সেনানিবাসে যে সাবজেল ঘোষণা করা হয়েছে, সেখানে নেওয়া হবে তাদের।”
আসামিপক্ষের এই আইনজীবী আরও বলেন,
> “টেকনিক্যালি প্রসিকিউশন বলেছে গ্রেপ্তার, তবে প্রকৃত অর্থে এটি আত্মসমর্পণ। তারা স্বেচ্ছায় আদালতে এসেছেন, পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেনি। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসন তাদের পরিবহনের ব্যবস্থা করেছে।”
১৫ সেনা কর্মকর্তা যারা আত্মসমর্পণ করেছেন: ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম (সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক, র্যাব), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরকালীন ছুটিতে), লে. কর্নেল মো. মশিউর রহমান (সাবেক পরিচালক, র্যাব গোয়েন্দা শাখা), লে. কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, লে. কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম, লে. কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম, মেজর মো. রাফাত বিন আলম (বিজিবি), মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন (সাবেক পরিচালক, ডিজিএফআই), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ