অনিবার্য কারণে স্থগিত হওয়া ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)-এর ভোট পূর্বঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৫ নভেম্বর আয়োজন করতে শ্রম অধিদপ্তরে স্মারকলিপি দিয়েছে নির্বাচনে অংশগ্রহনকারী ১৬ জন প্রার্থী।

আজ রোববার (২৬ নভেম্বর) শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে এই স্মারকলিপি জমা দেয়া হয়েছে। এতে পূর্বনির্ধারিত তারিখে নির্বাচন আয়োজন করার এই দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপিত স্বাক্ষর করা প্রর্থীরা হলেন- সহ সভাপতি প্রার্থী রফিক মুহাম্মদ, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রার্থী ইকবাল মজুমদার তৌহিদ ও ডিএম আমিরুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক প্রার্থী খন্দকার আলমগীর হোসাইন ও ফারুক আহমেদ সুজন, জনকল্যাণ সম্পাদক ইসরাফিল ফরাজী, প্রচার সম্পাদক প্রার্থী মো. শিমুল হাসান এবং নিবার্হী সদস্য প্রার্থী কেফায়েত শাকিল, মো. বাকি বিল্লাহ, ফখরুল ইসলাম, মো. জহির আলম সিকদার, মো. ইসমাইল হোসেন বাবু, মো. মজিবুর রহমান সরকার, জাহিদুর রহমান, মুজাহিদুল ইসলাম ও শেখ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) প্রতিষ্ঠার পর থেকে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে কাজ করে যাচ্ছে। গত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদ সরকারের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে এই ইউনিয়নের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। চব্বিশের অভ্যূত্থানে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্যরা সরাসরি ফ্যাসিবাদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ইউনিয়নকে ফ্যাসিবাদ মুক্ত করেছে। ডিইউজের সদস্যদের প্রাণের দাবি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একটি নির্বাচন। যে নির্বাচনে ভোটের মধ্য দিয়ে নতুন নেতৃত্বকে বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন সদস্যরা। ডিইউজের বর্তমান নির্বাহী পরিষদ সদস্যদের দাবি মেনে নিয়ে গঠনতন্ত্র অনযায়ী গত ২২ সেপ্টেম্বর দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন-২০১৫ এর তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল অনুযায়ী গত ২৩ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা করেন। সন্ধ্যা ৬টার পর শ্রম অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মনোনয়নপত্র বাক্স বন্ধ করা হয়। ওইদিন মনোনয়নপত্র জমা নেয়ার ২ ঘণ্টা পর রাত ৮টার দিকে কোন সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই ‘অনিবার্য কারণ’ উল্লেখ করে অবৈধভাবে ফ্যাসিবাদ কায়দায় নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান।

স্মারকলিপিতে আরো উল্লেখ করা হয়, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ-১৩ এর ৬নং ধারা অনুযায়ী নির্বাচন স্থগিতের ক্ষমতা নির্বাচন কমিটির নেই। কেবল নির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্তেই নির্বাচন স্থগিত হতে পারে। কিন্তু নির্বাচন কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশনের কোনো সদস্য এবং নির্বাচন কমিটির সদস্য কিংবা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা অন্তত ৮৫ জন প্রার্থীর সঙ্গে কোনো প্রকার আলোচনা না করেই রাতের আধারে ফ্যাসিবাদি কায়দায় নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন।

এমতাবস্থায় ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নে ২ হাজার ২৭০ জন সদস্যের ভোটাধিকার রক্ষায় তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে স্মারকলিপিতে।