চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা বিপজ্জনক পণ্যসমূহ পরিবেশসম্মত উপায়ে ধ্বংস করা হয়েছে। নিলাম অযোগ্য বিপজ্জনক ও ধ্বংসযোগ্য পণ্য বিনষ্টকরণে গঠিত আন্তঃসংস্থা কমিটির তত্ত্বাবধানে গত ২৫ ও ২৬ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী এই ধ্বংস কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জনসংযোগ দফতর থেকে এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ নূরুল্লাহ নূরীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই কার্যক্রমে পরিবেশ অধিদপ্তর, বিস্ফোরক অধিদপ্তর, ডিজিএফআই, এনএসআই, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ধ্বংসকৃত পণ্যের মধ্যে ছিল ১৬টি কন্টেইনারে আনকোটেড ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া এক ধরনের খনিজ গুঁড়া), আনকোটেড ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (এক ধরনের প্রাকৃতিক খনিজ পদার্থ), ১টি করে অরেঞ্জ ইমালশন(এক ধরনের তরল মিশ্রণ), সুইট হুই পাউডার (দুধ থেকে চিজ তৈরির পর বাকি থাকা তরল অংশ), স্কিমড মিল্ক পাউডার (চর্বিহীন দুধ শুকিয়ে তৈরি করা গুঁড়া দুধ)। এসব কন্টেইনার দীর্ঘদিন ধরে বন্দর এলাকায় জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছিল।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, আনসার সদস্য এবং স্থানীয় বন্দর থানার পুলিশ ধ্বংস কার্যক্রমে নিরাপত্তা ও সহায়তা প্রদান করে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার জট কমাতে প্রায় ৬,০৬৯ কন্টেইনার (প্রায় ১০,০০০ TEUs) এর ইনভেন্টরি সম্পন্ন করে দ্রুত নিলামের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কন্টেইনার নিলামে বিক্রি হয়েছে।
গত বছরও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস ও বন্দর কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে ১৪ বছর ধরে পড়ে থাকা চারটি অতিদাহ্য কন্টেইনারে বহন করা কন্টেইনার সফলভাবে অপসারণ ও ধ্বংস করেছিল।
এনবিআর আশা প্রকাশ করেছে, চলমান উদ্যোগের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার জট নিরসনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে এবং বন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫, ১:৫৬ অপরাহ্ণ