চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস কর্তৃক প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকা মূল্যের আমদানি নিষিদ্ধ বিপুল পরিমাণ পপি সিড আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ অফিস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানানো হয়।

কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, মেসার্স আদিব ট্রেডিং, ঠিকানা: ৭ নং কোরবানিগঞ্জ, কোতয়ালী, চট্টগ্রাম-৪০০০ এর পক্ষে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এম.এইচ. ট্রেডিং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট লি., হোল্ডিং নং-৬৫৬/১ (নিচতলা), রোড নং-০৩, শান্তিবাগ, হালিশহর, চট্টগ্রাম— পাকিস্তান থেকে ৩২ হাজার ১০ কেজি বার্ড ফুড ঘোষণায় পণ্য আমদানি করে তা খালাসের জন্য চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস হাউসের গোয়েন্দা শাখা চালানটি আটক করে। পরে ২২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে আমদানিকারক মনোনীত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এবং অফডক কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে চালানটি কায়িক পরীক্ষা করা হয়।

পরীক্ষায় দেখা যায়, ঘোষিত ৩২ হাজার ১০ কেজি বার্ড ফুডের মধ্যে ৭ হাজার ২০০ কেজি আসল বার্ড ফুড থাকলেও বাকী ২৪ হাজার ৯৬০ কেজি ছিল নিষিদ্ধ পপি সিড। চতুরতার সঙ্গে কন্টেইনারের দরজার পাশে বার্ড ফুড রেখে এর নিচে পপি সিড গোপন করা হয়েছিল।

পরবর্তীতে পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ দপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যানোপ্রযুক্তি সেন্টার এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ল্যাবে ভৌত ও রাসায়নিক পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয় যে, পণ্যটি পপি সিড।

আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪ অনুযায়ী পপি সিড আমদানি নিষিদ্ধ এবং এটি ‘ক’ শ্রেণির মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুসারে নিয়ন্ত্রিত পদার্থ হিসেবে বিবেচিত। ফলে কাস্টমস আইন, ২০২৩ এর বিধান মোতাবেক পণ্যচালানটি জব্দ করা হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, চালানটির ঘোষিত মূল্য ছিল ৩০ লাখ ২ হাজার ৪৮২ টাকা, তবে পরীক্ষণে প্রাপ্ত পণ্যের বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপে এই বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পপি সিড আমদানি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।