ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) শুক্রবার ৭ নভেম্বর বিকেলে ঐতিহাসিক বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে “জনতার নয়া রাজনীতির আকাঙ্ক্ষা: বিপ্লব ও সংহতি দিবস” শীর্ষক আলোচনা সভা করেছে। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক, একাডেমিক ও সংগঠনিক ব্যক্তিত্ব অংশগ্রহণ করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, পরিচালনা করেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা।
অধিবেশনে বক্তারা ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও দেশের জন্য এর তাৎপর্য, সেই আন্দোলনে জন্ম নেওয়া সম্প্রীতির আদর্শ এবং জনগণকেন্দ্রিক নতুন রাজনৈতিক প্রত্যাশা নিয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল এড. এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা ও দলীয় মুখপাত্র মাহদী আমিন, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, ঢাকার রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, ইসলামী ব্যাংকের সাবেক এমডি ও লেখক আবদুল মান্নান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা শেখ তানভীর বারী হামিম।
বক্তাগণ তাদের বক্তব্যে শাসনব্যবস্থার বিকৃতি, জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের মূল্যাকে গুরুত্ব দিয়ে ঐতিহ্যগত ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করেন।
বিএনপি উপদেষ্টা মহদী আমিন অনুষ্ঠানে ৭ নভেম্বরকে জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, সেই দিনে সিপাহী-জনতা মিলে যে রাজনৈতিক প্রত্যাশা জেগেছিল—স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য—আজও তা বৈধ ও প্রাসঙ্গিক। অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ডাকসুকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন মতাবলম্বীর একজোট কথা-বার্তা এ দিনটির বাস্তব প্রতিফলন।
অপর দিকে জামায়াতের এহসানুল জুবায়ের ৭ নভেম্বরকে স্মরণ করে বলেন, এই দিবস সমাজকে স্মরণ করায় যে, স্বৈরশাসন ও ফ্যাসিবাদকে রুখতে জনমানুষের ঐক্যের প্রয়োজন। তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সামাজিক ভাষা বোঝার ক্ষমতা ও জননেতৃত্বের দিকটিও তুলে ধরেন।
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম তাঁর বক্তব্যে বলেন, ৭ নভেম্বরের ঐতিহ্য—বহুদলীয় গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষার তাগিদ—আজকের প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিক। তিনি যোগ করেন, যে কোনো দলীয় পরিচয়েই হোক, আধিপত্যবাদ ও ‘কালচারাল ফ্যাসিবাদ’—এসবের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।
আলোচনা সভায় উপস্থিত দর্শক ও অংশগ্রহণকারীরা রাজনৈতিক সংলাপ, যুগোপযোগী সংহতি ও জনভিত্তিক রাজনীতির গুরুত্বে একমত প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠান শেষে বক্তারা দেশের সামনে দাঁড়ানো বহুবিধ রাজনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঐক্য ও জনসেবামুখী নীতির ওপর জোর দেন।
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:০৬ অপরাহ্ণ