দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের বিতর্ক সংগঠন ‘হাউস অব ডিবেট’ আবারও ফিরে এসেছে নতুন উদ্যমে। নবজাগরণের এই সূচনায় ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুটি কর্মশালা ও একটি প্রাণবন্ত প্রদর্শনী বিতর্ক, যা হলে বিতর্কচর্চায় নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

প্রথম দুটি ওয়ার্কশপে নবীন ও অভিজ্ঞ বিতার্কিকরা একসঙ্গে অংশ নেন। তারা যুক্তি উপস্থাপনের কৌশল, বক্তব্যের কাঠামো এবং দলগতভাবে চিন্তা করার পদ্ধতি সম্পর্কে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেন। এর ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয় একটি প্রদর্শনী বিতর্ক, যার বিষয় ছিল — “এই সংসদ (কুবি) মনে করে, হল সংসদ নির্বাচনে ভোটার ও প্রার্থী আবাসিক শিক্ষার্থী হতে হবে।”

প্রদর্শনী বিতর্ক চলাকালে পুরো হলে ফিরে আসে পুরনো প্রাণচাঞ্চল্য — করতালি, যুক্তি, হাসি ও আবেগে মুখর হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। শিক্ষার্থীদের ভাষায়, এটি শুধুই একটি ইভেন্ট নয়; বরং পুনর্জাগ্রত এক ঐতিহ্যের প্রতীক।

‘হাউস অব ডিবেট’-এর সদস্যরা জানান, নিয়মিত কর্মসূচি ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা হলের বিতর্কচর্চাকে আরও সক্রিয় করতে চান। তাদের বিশ্বাস— “শব্দই শক্তি, যুক্তিই পথপ্রদর্শক।”

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির (সিওইউডিএস) সাধারণ সম্পাদক ও হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মো. মুহসিন জামিল বলেন,
“বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্কচর্চা আরও গতিশীল করতে আমরা হলভিত্তিক কার্যক্রমে জোর দিচ্ছি। শিগগিরই আন্তঃহল বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।”

হলের শিক্ষার্থী মো. আজহারুল ইসলাম বলেন,
“দীর্ঘদিন ডিবেট বন্ধ ছিল। কিছু আগ্রহী শিক্ষার্থীর উদ্যোগে আমরা আবার শুরু করেছি ওয়ার্কশপ ও সেশন। সিনিয়র-জুনিয়রের মধ্যে সম্পর্ক দৃঢ় রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের স্কিল ডেভেলপমেন্টে এমন আয়োজন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।”

অন্যদিকে শিক্ষার্থী মো. নাজমুল হাসান ফাহিম বলেন,
“ঢাকা, রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ক্যাম্পাসগুলোতে হলভিত্তিক সাংস্কৃতিক ও বিতর্ক কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের বিকাশে বড় ভূমিকা রাখে। কুবিতেও সেই সংস্কৃতি গড়ে তুলতে ‘হাউস অব ডিবেট’-এর এই নতুন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও গড়ে উঠবে একটি প্রাণবন্ত হল সংস্কৃতি — যেখানে যুক্তি, মতপ্রকাশ ও মুক্তচিন্তা বিকশিত হবে নতুন প্রজন্মের হাতে।