চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় আলোচিত হাটহাজারীর জোবরা গ্রামের যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ হানিফ গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার (১৬ নভেম্বর) বিকাল ৫টার দিকে তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে হাটহাজারী থানা।
গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে হাটহাজারী থানার ওসি মো. মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, ‘আজকে বিকাল ৫টার দিকে তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’
জুলাই আন্দোলনে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও ফতেপুর ইউনিয়নে ‘মাফিয়া’ হয়ে ত্রাসের রাজত্ব করছিলেন যুবলীগ নেতা হানিফ। তার অন্যতম সহযোগী ছিলেন ছোট ভাই ইকবাল, যিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
এ ইউনিয়নে মাদক ব্যবসা, গাছ বিক্রি, চাঁদাবাজি, স্থানীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং অবৈধ দখলের একক রাজত্ব ছিল হানিফের। এসব নিয়ে কেউ মুখ খুললেই পড়তে হতো তার রোষানলে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হানিফ–ইকবাল চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা, গাছ চুরি-বিক্রি, চাঁদাবাজি, অবৈধ দখলদারি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের ওপর হামলা চালিয়ে আসছিল। হাটহাজারীসহ বিভিন্ন থানায় ১০টির বেশি মামলা থাকলেও প্রভাব-প্রতিপত্তি ও ‘ম্যানেজমেন্টের’ কারণে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন।
এরআগে ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন এলাকার দোকান দখল নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় হানিফের অনুসারীরা। এতে পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হন। চলতি বছরের ৩১ আগস্ট রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৭০ শিক্ষার্থী আহত হয়। যা শুরু হয় একজন ছাত্রীকে মারধরের ঘটনার জেরে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এসব ঘটনায় পৃথক মামলা করে, যেখানে হানিফকে আসামি করা হয়।
স্থানীয়দের মতে, চবি রেলস্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ের জায়গায় থাকা অধিকাংশ দোকানের নিয়ন্ত্রণ ছিল হানিফের হাতে। দোকান পরিচালনা করতে নিয়মিত চাঁদা দিতে হতো তাকে। ফতেপুর ইউনিয়ন ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নতুন কোনো দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করতে হলেও নিতে হতো তার ‘অনুমতি’। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মারধর, ভাঙচুর ছিল নিয়মিত ঘটনা।
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:০৬ অপরাহ্ণ