শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে ঠোঁট ফাটার সমস্যা যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে ওঠে। তবে শুধু আবহাওয়ার শুষ্কতা নয়, শরীরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনের ঘাটতিও ঠোঁট ফাটার অন্যতম বড় কারণ হতে পারে—এমনই মত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।

ঠোঁটের ত্বক খুব নরম ও সংবেদনশীল হওয়ায় অল্পতেই শুষ্ক হয়ে ফেটে যেতে পারে। বিশেষ করে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, ভিটামিন সি ও ভিটামিন এ-এর অভাব থাকলে শীতে ঠোঁটের অবস্থা আরও খারাপ হয়।

ঠোঁট ফাটার পেছনের প্রধান ভিটামিন ঘাটতি-

ভিটামিন বি২ (রিবোফ্লাভিন) ঠোঁটের কোণে দাগ ও ফিশার তৈরি হয়, ভিটামিন বি৩ (নিয়াসিন) ঠোঁট লালচে ও শুষ্ক হয়ে ফেটে যেতে পারে, ভিটামিন সি ত্বক দ্রুত বুড়িয়ে যায় ও মেরামত প্রক্রিয়া ধীর হয়, ভিটামিন এ ত্বকের আর্দ্রতা কমে গিয়ে প্রদাহ হতে পারে।

ঠোঁট ফাটা রোধের ঘরোয়া উপায়-

১. মধু ও অলিভ অয়েল- মধু ঠোঁটকে ময়েশ্চারাইজ করে, আর অলিভ অয়েল আর্দ্রতা ধরে রাখে। মিশ্রণটি ঠোঁটে লাগালে দ্রুত আরাম মেলে।

২. গ্লিসারিন ও গোলাপজল- শোবার আগে ঠোঁটে লাগালে সকালে ঠোঁট হয় তুলতুলে ও নরম।

৩. ক্যাস্টর অয়েল- প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে এবং দ্রুত ফাটা ঠিক করে।

৪. তেল ও চিনির স্ক্রাব- চিনি মৃত কোষ সরায়, তেল দেয় আর্দ্রতা। সপ্তাহে ১-২ বার ব্যবহার করা যেতে পারে।

৫. ভিটামিন ই তেল- ত্বকের পুনর্গঠন ও হাইড্রেশন বাড়ায়।

ঠোঁট সুস্থ রাখতে আরও কিছু পরামর্শ-

পর্যাপ্ত পানি পান করুন, ভালো মানের লিপ বাম ব্যবহার করুন, রোদে বের হলে ঠোঁটে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন, তামাক ও অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ-

শীতকালে ঠোঁট ফাটা একটি সাধারণ সমস্যা হলেও, বারবার ফেটে গেলে তা ভিটামিনের ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে। তাই ভিটামিন সি, বি২, বি৩ ও ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত যত্ন নিলে ঠোঁট থাকতে পারে মোলায়েম ও আকর্ষণীয়।