জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’-এর প্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা। দীর্ঘ সময় কারাবাস থেকে মুক্ত হয়ে শিক্ষাজীবন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার গল্পে আলোচনায় আছেন তিনি।
খাদিজাতুল কুবরা জানান, ২০২৩ সালের ২০ নভেম্বর তাঁর দ্বিতীয় বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের প্রথম ফাইনাল পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষার সকালে কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে সরাসরি পরীক্ষার হলে উপস্থিত হন তিনি। ১৫ মাসের কারাজীবন তাঁর মানসিক দৃঢ়তা, সাহস এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ার শক্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মুক্তির পর নানান শর্ত আর বাধা সত্ত্বেও থেমে থাকেননি কুবরা। ক্লাস-পরীক্ষার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন আন্দোলন, প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, অনলাইন-অফলাইন টকশোসহ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল আন্দোলন, আইন ও বিচার ব্যবস্থার সংস্কার, নারী উন্নয়ন ও বৈষম্য প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন। তাঁর এই পথচলায় লাখো মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছেন বলে জানান তিনি।
নিজেকে ‘ভিক্টিম কার্ড’ নয় বরং প্রকৃত ভুক্তভোগী হিসেবে উল্লেখ করে কুবরা বলেন, “আমি দমে যাওয়ার জন্য জন্ম নেইনি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছি, ভবিষ্যতেও বলব। আমার নামে কিংবা আমার পদবি ব্যবহার করে কেউ কোনো অবৈধ কাজ করবে—এটা কখনোই সম্ভব নয়।”
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তবতা, বিশেষ করে ছাত্রীদের নানা সংকট তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশেষ প্রয়োজনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে চান তিনি। নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, অধিকার ও সুযোগ বৃদ্ধিকে তাঁর অগ্রাধিকার হিসেবে দেখবেন বলে জানান।
সমাজের প্রচলিত ট্যাবু ভাঙা, নতুন চিন্তা-চেতনার পরিবর্তন আনা এবং ‘নারীরা সবক্ষেত্রেই সক্ষম’—এ বার্তাকে সামনে রেখে তিনি বলেন, “নারীরা শুধু প্রচার নয়, নীতি প্রণয়ন থেকে বাস্তবায়ন—সব জায়গাতেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”
জিএস পদপ্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা সকল জবিয়ান শিক্ষার্থীর দোয়া ও সমর্থন কামনা করে বলেন, “কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সব বাধা-বিপত্তি পার করতে চাই। ন্যায় ও সত্যের পথে কাজ করার অঙ্গীকারই আমার শক্তি।”
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:০৫ অপরাহ্ণ