জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাত ও নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল। আজ বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরে তারা।
‎

সংবাদ সম্মেলনে প্যানেলটি অভিযোগ করে, শুরু থেকেই কমিশনের আচরণ প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তাদের দাবি, কমিশন একাধিক সিদ্ধান্তে ছাত্রদল–সমর্থিত প্যানেলকে সুবিধা দিয়েছে এবং নিয়ম–নীতি প্রয়োগে শিথিলতা দেখিয়েছে।
‎
‎২ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের বৈঠকে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী ২৭ নভেম্বরই নির্বাচন করার পক্ষে মত দিলেও ছাত্রদলের বিরোধিতার পর কমিশন ভোটের তারিখ পিছিয়ে ২২ ডিসেম্বর নির্ধারণ করে। সেদিন ডেইলি ক্যাম্পাস–এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ছাত্রশক্তি অভিযোগ করে—ছাত্রদল নির্বাচন দীর্ঘায়িত করতে চাপ দিচ্ছে। এ ছাড়া জবি প্রেসক্লাব–এর রিপোর্টেও বলা হয়, ছাত্রদলের চাপের মুখে কমিশন নির্বাচন পেছানোর দিকে যায়।
‎
‎অদম্য জবিয়ান ঐক্যের দাবি, এসব সিদ্ধান্ত কমিশনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
‎
‎২৪ নভেম্বর উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা ও সাদা দলের শিক্ষক অধ্যাপক রিফাত হোসাইন বলেন, “২২ ডিসেম্বরের মধ্যে যদি ভূমিকম্প হয়, প্রার্থীরাই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার দায় নেবে কি না—সেটা প্রশ্ন।”
‎
‎প্যানেলের দাবি, এই মন্তব্য নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার যুক্তি তৈরির চেষ্টা এবং নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর শামিল।
‎এ সময় হল সংসদের এক নারী প্রার্থী পাল্টা প্রশ্ন করলে শিক্ষক ক্ষুব্ধ হন বলেও অভিযোগ করা হয়।
‎
‎সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা হাসান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিভাগের একজন প্রার্থীকে অভিনন্দন জানান। এটি নির্বাচনী আচরণবিধির ৬(ঙ) ধারার লঙ্ঘন। এদিকে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রইছ উদ্দিন এ আচরণকে “যৌক্তিক” বলে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, যা নিয়েও প্রশ্ন তোলে প্যানেলটি।
‎
‎পরিবহন প্রশাসক তারেক বিন আতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেন—ছাত্রদল–সমর্থিত প্যানেলের দুই প্রার্থী বিভাগের শহরগুলোতে গাড়ি দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। পরবর্তীতে আরেক পোস্টে তিনি লেখেন—উপাচার্যের নির্দেশে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
‎
‎প্যানেলের দাবি, উপাচার্য জানিয়েছেন—কোনো সংগঠনের অনুরোধ ছাড়াই তিনি নিজ উদ্যোগে পরিবহনের ব্যবস্থা করেন। অদম্য জবিয়ান ঐক্যের মতে, পরিবহন প্রশাসকের বক্তব্য আচরণবিধির ৬(ঙ) ধারার লঙ্ঘন।
‎
‎২৩ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কনসার্টে কমিশনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ছাত্রদল–সমর্থিত প্যানেলের তিন প্রার্থী স্টেজে উঠে বক্তব্য দেন। জিএস প্রার্থী প্রকাশ্যে অর্থ প্রদানের ঘোষণা দেন বলেও অভিযোগ। এ ঘটনাকে নির্বাচন কমিশন আচরণবিধির ৩ নম্বর শর্ত লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করলেও কেবল দুইজনকে ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে।
‎
‎প্যানেলের মন্তব্য, “এটি প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত দুর্বল ব্যবস্থা।”
‎
‎নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী ১২ নভেম্বর পর্যন্ত কল্যাণমূলক কার্যক্রম করা যাবে। কিন্তু প্যানেলের অভিযোগ—১৬ নভেম্বর প্লেট–গ্লাস বিতরণ,১২ নভেম্বর রাত ১২টার পর কুইজ প্রতিযোগিতা ও চেয়ার সিটিং,গভীর রাতে গান বাজানো—এসবই বিধি লঙ্ঘন।
‎
‎২৪ নভেম্বর কমিশন ও প্যানেল–প্রার্থীদের সভায় ছাত্রদল ছাড়া প্রায় সব প্যানেল ২২ ডিসেম্বরেই নির্বাচন করার পক্ষে মত দেয়—এ দাবি অদম্য জবিয়ান ঐক্যের।
‎কিন্তু পরদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন— “ছাত্রশিবির ছাড়া সবাই নির্বাচন পেছানোর পক্ষে ছিল।” প্যানেলের দাবি, এটি “সুস্পষ্ট মিথ্যাচার।”

তারা বলেন, ছাত্রশক্তি ও ভাসানী ব্রিগেড প্যানেলও ২২ ডিসেম্বর নির্বাচন চান।
‎
‎‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে—নির্বাচন কমিশন নির্দিষ্ট প্যানেলকে সুবিধা দিচ্ছে,আচরণবিধি প্রয়োগে শিথিলতা দেখাচ্ছে, দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য নির্বাচনকে বিতর্কিত করছে,এবং এসব কারণে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ হুমকির মুখে।
‎
‎
‎
‎