১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ বাংলা সাহিত্যের আকাশে এক নক্ষত্রের জম্ম হয়েছিল। তার নাম নজরুল। বাংলার সাহিত্যাকাশের লুব্ধক। হয়ত আপনি বিতর্ক করতে পারেন, তবে সে বিতর্ক শুধু তর্কের খাতিরে। ক্যানোপাসও আকাশে আলো ছড়িয়ে দেয় তবে তার চেয়ে দ্বিগুণ আলোয় আকাশকে আলোকিত করে লুব্ধক।

বাংলা সাহিত্যে বহু গুণী লেখক, কবি এসেছেন তবে নজরুল ছিল সবচেয়ে উজ্জ্বলতম। বহু অভিধায় সম্ভাষিত নজরুল ছিলেন এক অনন্য ও বিরলপ্রজ ব্যক্তিত্বের অধিকারী। বাঙালীর সুখ, দুঃখ, সংগ্রাম, বিদ্রোহে নজরুলের সর্বময় উপস্থিতি। তাকে বলা হয় সাম্য, প্রেম ও দ্রোহের কবি। নজরুল বাংলাদেশের জাতীয় কবি, প্রাণের মানুষ।

নজরুলকে নিয়ে লিখবার মতো শব্দ কিংবা উপমা আমার কাছে নেই। পুরো বাংলা সাহিত্য যদি একটি রাজ্য হয় নজরুল সে রাজ্যের নবাব। বাংলা সাহিত্য যদি ফুল হয় নজরুল তার সৌরভ। বাংলা সাহিত্য যদি সিন্ধু অভিযান হয় নজরুল হলো মুহাম্মদ বিন কাসিম। বাংলা সাহিত্য যদি ফ্যাক্টর অ্যানালাইসিস হয় তবে নজরুল হলো স্পিয়ারম্যান। যদি পুরো বাংলা সাহিত্য হয় যোহনের গসপেল তবে নজরুলের সাহিত্য তার তৃতীয় অধ্যায়ের ষোড়শ শ্লোক।

আপনি বিপ্লবী, রোমান্টিক, স্বদেশ চিন্তক কিংবা আত্মপ্রেমিক যা কিছু হোন না কেন আপনাকে নজরুলের সাহিত্যের কাছে যেতেই হবে। নজরুলের সাহিত্য ছাড়া বাংলা সাহিত্যের জগৎ অসম্পূর্ণই থেকে যেত। নজরুলের মতো করে আর কে কখন বলতে পেরেছিল ‘‘আমি আপনারে ছাড়া করিনা কাহারে কুর্ণিশ!’’

গল্প, উপন্যাস, গান, কবিতাসহ বাংলা সাহিত্যের অন্যসব অঙ্গন সমৃদ্ধ হয়েছে যার লিখায় তিনি বহুমুখী প্রতিভার অনন্য সম্মীলন কাজী নজরুল ইসলাম। যতদিন বাঙালীর অস্তিত্ব থাকবে, বাংলা সাহিত্য থাকবে ঠিক ততদিন নজরুলের সাহিত্য থাকবে। সময়ের সাথে সাথে আরও বেশি কদর বাড়বে নজরুল সাহিত্যের। নিজের কাজেই স্বমহিমায় উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হয়ে বেঁচে থাকবেন আমাদের সবার প্রিয় কবি নজরুল।

রেফায়েত উল্যাহ রুপক,
কবি, সাংবাদিক ও সংগঠক