মহাকাশের চরম পরিবেশেও টিকে থাকার ক্ষমতা দেখিয়েছে শ্যাওলার স্পোর। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (ISS) বাইরের অংশে টানা ২৮৩ দিন রাখা ছিল পরীক্ষামূলক কয়েকটি স্পোর। পৃথিবীতে ফিরে আসার পর দেখা গেছে—এর বেশিরভাগই জীবিত এবং পুনরায় অঙ্কুরোদগমে সক্ষম।

এই পরীক্ষাটি পরিচালনা করেছে জাপানের হোক্কাইডো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদল। তারা জানান, মহাকাশে ছয়–সাত মাস টিকে যাওয়াই সাধারণত বিস্ময়কর হিসেবে ধরা হয়, কিন্তু এই শ্যাওলা তার থেকেও বেশি সময় বেঁচে থেকে বিজ্ঞানীদের ধারণা পাল্টে দিয়েছে। তাদের মতে, পরিবেশ ধীরে পরিবর্তিত হলে এসব স্পোর ১৫ বছর পর্যন্ত জীবিত থাকতে পারে।

গবেষকদের ব্যাখ্যায় জানা গেছে, মহাকাশে শ্যাওলাগুলোকে চরম তাপমাত্রার ওঠা–নামা, অতিবেগুনি রশ্মি, বিকিরণ এবং প্রায় শূন্য মহাকর্ষসহ নানা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে রাখা হয়। প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিশেষ অভিযোজন ক্ষমতার কারণে শ্যাওলার DNA ও মৌলিক কোষ কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পুরোপুরি নষ্ট হয়নি।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে চাঁদ বা মঙ্গলগ্রহে মানব বসতি স্থাপন–সংক্রান্ত গবেষণায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে। মহাকাশে অক্সিজেন উৎপাদন, কার্বন ডাই–অক্সাইড শোষণ এবং সম্ভাব্য খাদ্য–উৎস হিসেবে শ্যাওলা অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।

গবেষণাটির ফলাফল শিগগিরই মহাকাশজীববিজ্ঞান–বিষয়ক আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হবে। বিজ্ঞানী দল বলছে, ‘মানবসভ্যতার মহাকাশ ভবিষ্যৎ গড়তে শ্যাওলা হতে পারে অন্যতম প্রধান জীবপ্রযুক্তি অংশীদার।’