সিসিডিবি স্কলারশিপসহ ইনোভেশন ওয়ার্ল্ড কাপের আন্তর্জাতিক পর্বে মনোনয়ন পেয়েছেন বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির (বিএমইউ) জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড মেরিন বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ ওয়াশিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম)–এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে সেরা প্রস্তাবনা হিসেবে ওয়াশিকের হাতে সিসিডিবি স্কলারশিপ তুলে দেওয়া হয়। তাঁর গবেষণার বিষয়বস্তু ছিল ‘সামুদ্রিক শেওলার (Seaweed) মাধ্যমে ব্লু কার্বন ধারণক্ষমতার সক্ষমতা নিরূপণ করা’।

জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবন পরিকল্পনা প্রণয়নের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি মর্যাদাপূর্ণ সিসিডিবি (CCDB) ক্লাইমেট চেঞ্জ রিসার্চ স্কলারশিপ অর্জন করেছেন এবং একইসাথে ‘ইনোভেশন ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬’-এর আন্তর্জাতিক পর্বের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে ওয়াশিকুর রহমান জানান, সমুদ্র বায়ুমণ্ডলের প্রচুর কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করলেও ক্রমবর্ধমান নিঃসরণে সমুদ্রের অম্লায়ন বাড়ছে। তাঁর গবেষণাটি মূলত সামুদ্রিক শেওলার কার্বন ধারণ ক্ষমতা নিরূপণ এবং ভবিষ্যতে জেনেটিক উন্নয়নের মাধ্যমে এই ক্ষমতা বৃদ্ধি করা নিয়ে কাজ করবে। তিনি আরও বলেন, সিউইড অ্যাকুয়াকালচার দেশের সুনীল অর্থনীতি (Blue Economy) শক্তিশালী করার পাশাপাশি ফার্মাসিউটিক্যাল, কসমেটিক ও ফুড প্রোডাক্ট শিল্পেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

অন্যদিকে, বৈশ্বিক উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতার মঞ্চেও নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন এই তরুণ গবেষক। তাঁর ‘শেলফিশের খোলস থেকে বায়োপ্লাস্টিক তৈরি’ প্রকল্পটি ইনোভেশন ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬-এর আন্তর্জাতিক রাউন্ডের জন্য নির্বাচিত হয়েছে, যা মালয়েশিয়ার MIICA এবং ইন্দোনেশিয়ার UNIKOM-এর আয়োজনে ইন্দোনেশিয়ার বান্দুং-এ অনুষ্ঠিত হবে।

ওয়াশিকের এই প্রকল্পে দেখানো হয়েছে কীভাবে চিংড়ি ও কাঁকড়ার মতো জলজ জীবের খোলস বর্জ্যকে পরিবেশবান্ধব ও শূন্য-বর্জ্য (Zero-waste) বায়োপ্লাস্টিকে রূপান্তর করা সম্ভব। বাংলাদেশে বছরে উৎপাদিত প্রায় ২ লাখ টনের বেশি এমন বর্জ্য ব্যবহার করে তিনি এমন একটি বায়োপ্লাস্টিক তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন, যা সাধারণ প্লাস্টিকের চেয়ে ৬ গুণ বেশি শক্তিশালী এবং মাত্র ৬০-৯০ দিনের মধ্যে প্রকৃতিতে মিশে যেতে পারে।

বিচারকমণ্ডলীর মতে, ওয়াশিকের এই উদ্ভাবনটি দেশের প্রায় ১.৭৪ থেকে ২.১৭ বিলিয়ন ডলারের বাজার তৈরি করতে সক্ষম, যা চিটিন-চিটোসান আমদানি হ্রাসের পাশাপাশি নতুন গ্রিন জব ও সার্কুলার ইকোনমি গড়ে তুলতে পারে। বিশেষ করে কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিন কেন্দ্রিক পাইলট পরিকল্পনার মাধ্যমে এটি সামুদ্রিক মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ কমাতে এবং এসডিজির (SDG) ৮, ১২, ১৩ ও ১৪ লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তরুণ গবেষকদের এমন বিজ্ঞানভিত্তিক ও উদ্ভাবনী সাফল্য ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সামুদ্রিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই প্রযুক্তির নতুন দ্বার উন্মোচন করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।