মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার ইতিহাসে চিঠি প্রথা এক প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আধুনিক ডাকব্যবস্থার বহু আগেই লিখিত বার্তা বিনিময় শুরু হয়েছিল প্রায় চার হাজার বছর আগে। গবেষকেরা বলছেন, প্রয়োজন ও দূরবর্তী যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা থেকেই চিঠি প্রথার জন্ম।
ঐতিহাসিক নথিতে দেখা যায়, খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ সালের দিকে মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে মাটির ফলকে কিউনিফর্ম লিপিতে প্রথম লিখিত বার্তার প্রচলন পাওয়া যায়। একই সময়ে প্রাচীন মিশরে প্যাপিরাসে লেখা বার্তাও ব্যবহৃত হতো। এগুলোই চিঠি প্রথার প্রথম নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।

পরে বিভিন্ন সাম্রাজ্য রাষ্ট্রীয়ভাবে বার্তা পাঠানোর জন্য নিয়মিত দূতব্যবস্থা গড়ে তোলে। পারস্য সাম্রাজ্যে ‘রয়্যাল রোড’, চীনের হান সাম্রাজ্যের ডাকপথ এবং রোমানদের ‘কার্সাস পাবলিকাস’ ছিল প্রাচীন বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ডাকব্যবস্থা। ভারতেও মোর্য ও গুপ্ত আমলে ঘোড়সওয়ার ও দূত মারফত বার্তা পাঠানোর ব্যবস্থা ছিল।
চিঠি প্রথায় বড় পরিবর্তন আসে কাগজ আবিষ্কারের পর। দ্বিতীয় শতকে চীনে কাগজ উৎপাদন শুরু হলে চিঠি লেখা সহজ ও ব্যাপক হয়। ধীরে ধীরে খাম, লেখার কলম ও কালি ব্যবহারের মাধ্যমে চিঠি ব্যক্তিগত যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে।
উনবিংশ শতকে ডাকব্যবস্থা আধুনিক রূপ পায়। ১৮৪০ সালে ব্রিটেনে ‘পেনি পোস্ট’ চালুর পর ডাকটিকিট, ডাকঘর ও নির্দিষ্ট ভাড়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য চিঠি প্রেরণ আরও সহজ হয়। সেখান থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আধুনিক ডাকব্যবস্থার বিস্তার ঘটে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেলিগ্রাম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট আসার পর চিঠির ব্যবহার কমলেও এর আবেগময় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব এখনো অপরিবর্তিত। রাষ্ট্রীয় নথি, ব্যক্তিগত স্মৃতি এবং আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে চিঠি আজও অন্যতম নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২:৩৭ অপরাহ্ণ