উপমহাদেশের আলোচিত চরিত্র ইমরান খান। ক্রিকেট তারকা থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠার পথে ইমরানের জীবনের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় ছিল এই বিয়ে। ইমরান খান ও জেমাইমা গোল্ডস্মিথের সম্পর্ক নিয়ে মিডিয়া পাড়া ছিল সরগরম। প্রেম থেকে বিচ্ছেদ—সব মিলিয়ে বহু বছর ধরে আলোচনায় ছিলেন এই জুটি।

১৯৯৫ সালে লন্ডনের একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিচয় হয় পাকিস্তানি ক্রিকেটার ইমরান খান ও ব্রিটিশ ব্যবসায়ী স্যার জেমস গোল্ডস্মিথের কন্যা জেমাইমা গোল্ডস্মিথের। বয়সের ব্যবধান ছিল ২১ বছর; জেমাইমা তখন ২১, আর ইমরান ৪২। কিন্তু বয়স, দূরত্ব বা সামাজিক বিভেদ কিছুই থামাতে পারেনি তাদের আকর্ষণ। পরিচয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই গড়ে ওঠে গভীর সম্পর্ক।

সেই বছরই, ১৬ মে ১৯৯৫, প্যারিসে নিকাহ্‌ সম্পন্ন করেন তারা। ইসলাম গ্রহণ করে জেমাইমা নাম নেন ‘জেমাইমা খান’। পাকিস্তানে ইমরানের লাহোরের বাড়িতে সংসার শুরু করেন তিনি। দ্রুত উর্দু শেখেন, সাংস্কৃতিক পার্থক্য গ্রহণ করেন, এমনকি ইমরানের মানবিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।

বিয়ের পর তাদের দাম্পত্য জীবনে আসে দুই সন্তান—সুলেমান ইসা খান (১৯৯৬) এবং কাসিম খান (১৯৯৯)। তবে সুখস্মৃতি সত্ত্বেও ধীরে ধীরে চাপ বাড়তে থাকে। পাকিস্তানের রাজনীতিতে ইমরানের ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততা, বিদেশিনী স্ত্রী হিসেবে জেমাইমার ওপর রাজনৈতিক সমালোচনা, লন্ডনে পড়াশোনা ও পরিবার থেকে দূরত্ব—সব মিলিয়ে সম্পর্কের উপর ছায়া ফেলতে শুরু করে।

অবশেষে ২০০৪ সালে নয় বছরের বিবাহিত জীবনের ইতি টানেন ইমরান–জেমাইমা। দুজনেই বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে জানান ভৌগলিক দূরত্ব ও রাজনৈতিক চাপের কথা। তবে তাদের বিচ্ছেদ ছিল সম্মানজনক ও বন্ধুত্বপূর্ণ। ইমরান বলেন, “জেমাইমা অসাধারণ মা ও বিশ্বস্ত সঙ্গী ছিলেন।” জেমাইমাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই ইমরানের প্রতি সমর্থন জানান।

আজও তারা ভালো বন্ধু। দুই ছেলেকে কেন্দ্র করেই তাদের বন্ধন অটুট রয়েছে। প্রেম, বিয়ে ও বিচ্ছেদ—সবকিছুর মধ্যেই ইমরান–জেমাইমার গল্পটি তাই এক অনন্য সম্মান ও সম্পর্কের উদাহরণ হয়ে রয়ে গেছে।