পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুত বাড়ছে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সংখ্যা। যে কেউ ইচ্ছামতো সংগঠন গড়ে তুললেও এসব সংগঠন পরিচালনার জন্য নেই কোনো নীতিমালা, অনুমোদনব্যবস্থা বা প্রশাসনিক তদারকি। ফলে ক্যাম্পাসে তৈরি হয়েছে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে এখন পর্যন্ত নতুন করে গড়ে উঠেছে ১৫টি সংগঠন—অর্থাৎ গড়ে প্রতি মাসে একটিরও বেশি। অথচ এর আগে প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ১৬ বছরে সংগঠনের সংখ্যা ছিল মাত্র ১৪টি।

নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হলেও কমিটির কার্যক্রম খুব একটা এগোয়নি।

সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সাত বছর পর প্রথম স্বীকৃত সংগঠন হিসেবে যাত্রা শুরু করে নাট্যসংগঠন ‘অনিরুদ্ধ নাট্যদল’। একই বছরে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘জোনাকি’। পরের বছর গড়ে ওঠে ‘পাস্ট ডিবেটিং সোসাইটি’। ধীরে ধীরে সংগঠনের সংখ্যা বাড়লেও সাম্প্রতিক তিন মাসে নতুন সংগঠন গঠনের প্রবণতা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে।

নতুন ১৫টি সংগঠনের মধ্যে আটটি দুই প্রধান রাজনৈতিক দল ও কয়েকজন শিক্ষকের সমর্থনে গড়ে উঠেছে—এমন অভিযোগও রয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, আগে ক্যাম্পাসে সংগঠন খুলতে ছাত্রলীগের অনুমোদন প্রয়োজন ছিল। জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানের পর সেই বাধ্যবাধকতা উঠে যাওয়ায় এখন যে কেউ সহজেই সংগঠন গড়ে তুলছেন। প্রশাসনের কোনো নীতিমালা না থাকায় এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রণও নেই।

অনেকের অভিযোগ, রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে এসব সংগঠন এখন ছায়া রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যার মাধ্যমে দলীয় কার্যক্রমও চলছে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) ভবনের নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে। ভবনটি চালু হলে সংগঠনগুলোর জন্য রুম বরাদ্দ দেওয়ার কথা থাকলেও কে রুম পাবে তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

সলভার গ্রিন সংগঠনের সাবেক সভাপতি সাব্বির ইফতেখার সাকিব বলেন, ‘ক্যাম্পাসে এখন ব্যাঙের ছাতার মতো সংগঠন গজাচ্ছে। কেউ কেউ আবার পাল্টাপাল্টি সংগঠন খুলছে। অনেক সংগঠন কয়েক দিন কার্যক্রম চালালেও টিকে থাকতে পারে না।’

নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির সদস্যসচিব ও ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দফতরের পরিচালক অধ্যাপক রাশেদুল হক বলেন, ‘নীতিমালা তৈরির কাজ এখনো তেমন এগোয়নি। আমরা কাজটি শুরু করেছি। এই মাসেই আবার একটি মিটিং আছে। দ্রুতই কাজ এগিয়ে নিতে পারব বলে ধারণা করছি।’