ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ পদপ্রার্থী শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন— ‘হাদি ভাই গুলিবিদ্ধ, ইন্টেরিম জবাব দে’, ‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই’, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’, ‘দালালি না রাজপথ’, ‘রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়’, ‘তুমি কে আমি কে—হাদি হাদি’, ‘ভারতীয় আধিপত্য ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’—সহ আরও বিভিন্ন স্লোগান।

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী আরাফ ভুঁইয়া বলেন,
‘জুলাই পরবর্তী সময়ে আমরা বারবার বলেছি—সন্ত্রাসী রাজনীতি ঠেকাতে হবে। গত ১৭ বছরে ক্ষমতার পাশাপাশি অস্ত্রেরও বিস্তার ঘটেছে। এসব সন্ত্রাসীকে দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। হাদি ভাইয়ের মতো মানুষরাও যখন নিরাপদ নয়, তখন সাধারণ মানুষ আরও বেশি অনিরাপদ। হামলাকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

ইনকিলাব মঞ্চ কুবি শাখার আহ্বায়ক হান্নান রহিম বলেন,
‘হাদি ভাই জুলাইয়ের সময় থেকে সক্রিয় ছিলেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে সোচ্চার ছিলেন। তার ওপরে হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক। হামলাকারীদের আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে হবে। নির্বাচনের আগে সব প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।’

কুবি ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক আবির বলেন,
‘২৪ জুলাইয়ের আন্দোলনের পরও একজন নাগরিক বা প্রার্থী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবেন—এটা কল্পনা করিনি। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন—এটা প্রমাণ করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও নাজুক। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।’

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় শরীফ ওসমান বিন হাদি গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।