চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেছেন এই টালমাটাল অবস্থায় দেশকে স্থিতিশীল রাখতে এবং জুলাই অভ্যুত্থানের মহৎ উদ্দেশ্যকে সুরক্ষিত করতে হলে আমাদের বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য একান্ত প্রয়োজন।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন ‘গত ১১ই ডিসেম্বর, যখন বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হলো, তখন যেন এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো; কিন্তু সেই শুভযাত্রায় অশনি সংকেত নিয়ে আবির্ভূত হলো পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তি। তাদের সুপ্ত বিদ্বেষ আর নির্বাচন বানচালের পূর্বপরিকল্পনা যেন ত্বরিত গতিতে বাস্তবায়িত হতে শুরু করেছে।’
চাকসুর এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা দেখলাম, সেই পরিকল্পনারই অংশ হিসেবে ঘটে যাওয়া কিছু উদ্বেগজনক ঘটনা—রাষ্ট্রপতির আকস্মিক পদত্যাগের অভিলাষ, রাজধানীর বুকে একাধিক অগ্নিকাণ্ড, এবং সর্বাপেক্ষা জঘন্যতম ঘটনা—জুলাই আন্দোলনের নির্ভীক যোদ্ধা, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদীকে হত্যার বর্বরোচিত প্রচেষ্টা।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই নৃশংসতার পরপরই এক অত্যন্ত নিন্দনীয় রাজনীতির উত্থান ঘটল। ঘটনার বিন্দুমাত্র নিরপেক্ষ তদন্তের অপেক্ষা না করেই একটি পক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর দায় চাপানোর ঘৃণ্য খেলায় মেতে উঠল। এই হীন প্রচেষ্টা সরাসরি জুলাই অভ্যুত্থানের পবিত্র ঐক্যের মূলে কুঠারাঘাত হানছে। এই ঐক্যের বাঁধন শিথিল হওয়ার মাধ্যমেই জুলাই অভ্যুত্থান ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে, আর এরই সুযোগ খুঁজছে সেই পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তি।’
তিনি বলেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্রমশ শিথিলতা দেখাচ্ছে উল্লেখ করে এতে আরও বলা হয়, “রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারও যেন একের পর এক ব্যর্থতার বেড়াজালে আবদ্ধ। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ শিথিল হয়ে আসছে। তফসিল ঘোষণার মতো এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রাজধানীতে একজন সম্ভাব্য সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীকে দিনের আলোয় হত্যার প্রচেষ্টা সরকারের নিদারুণ ব্যর্থতারই সাক্ষ্য বহন করে। এছাড়াও জুলাই গণহত্যাকে সমর্থনকারী চিহ্নিত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও কর্মচারীদের এখনো অপসারণ না করা, আওয়ামী সন্ত্রাসীদের একের পর এক মুক্তি দান, এবং লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে সরকারের চূড়ান্ত ব্যর্থতা—এই সমস্ত ঘটনা জনমনে প্রশ্ন তুলছে: সরকার নাকি প্রতিবেশী দেশের আজ্ঞাবহ ডিপ স্টেট—আসল নিয়ন্ত্রক তবে কে?’
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই টালমাটাল অবস্থায় দেশকে স্থিতিশীল রাখতে এবং জুলাই অভ্যুত্থানের মহৎ উদ্দেশ্যকে সুরক্ষিত করতে হলে আজ আমাদের একান্ত প্রয়োজন—জাতির বৃহত্তর ঐক্য। দেশের এই অস্থির পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা অত্যাবশ্যক। এই পথেই দেশ আবার স্থিতিশীলতার দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে, পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তির পরাজয় সুনিশ্চিত হবে, এবং জুলাই আন্দোলনের চেতনা চিরকালের জন্য সুরক্ষিত থাকবে। জুলাই আন্দোলনের বীর যোদ্ধা ওসমান হাদির ভাষায়ই আজ আমাদের চূড়ান্ত প্রতিজ্ঞা উচ্চারিত হোক— জান দেব, জুলাই দেব না।’
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:৩৫ অপরাহ্ণ