দেশে উদ্ভুত নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রের (আইভ্যাক) কার্যক্রম আজ বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) স্বাভাবিক নিয়মে চালু করা হয়েছে। আজ সকালে ভারতীয় হাইকমিশন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে।
এর আগে বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) ঢাকায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সংগঠনের মোর্চা ‘জুলাই ঐক্য’-এর ব্যানারে ‘মার্চ টু ইন্ডিয়ান হাইকমিশন’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ওই কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় দুপুর ২টা থেকে যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল।
এদিকে, একই দিন এর প্রায় দুই ঘণ্টা আগে বাংলাদেশে ক্রমাবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নয়াদিল্লির গভীর উদ্বেগ জানাতে দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে তলব করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক সূত্রগুলো থেকে জানা যায়, গত রোববার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেভাবে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করেছিল, দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর ক্ষেত্রে সেভাবে ঘটেনি। প্রণয় ভার্মাকে আগের দিন তলবের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু গতকাল সকালে বাংলাদেশ হাইকমিশনে ফোন করে ঘণ্টা দেড়েকের মধ্যে রিয়াজ হামিদুল্লাহকে দিল্লির জওহরলাল নেহরু ভবনে অবস্থিত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়।
দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (বাংলাদেশ-মিয়ানমার বিভাগ) বি শ্যাম তলব করেন রিয়াজ হামিদুল্লাহকে। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার পর শুরু হওয়া তলবের ব্যাপ্তি ছিল ১৫ মিনিটের মতো।
বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে যে টানাপোড়েন চলছে, তা আবারও সামনে এল। দুই দিনের ব্যবধানে দুই দেশের হাইকমিশনারকে তলবের ঘটনা ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টির আবহ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
তলবের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, বাংলাদেশে ক্রমাবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নয়াদিল্লির গভীর উদ্বেগ জানাতে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করে। এ সময় তার মনোযোগ বিশেষভাবে আকর্ষণ করা হয় ‘কিছু চরমপন্থী গোষ্ঠীর’ কর্মকাণ্ডের দিকে, যারা ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সৃষ্টির পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছে।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে ভারত আরও বলেছে, কূটনৈতিক বাধ্যবাধকতার আলোকে বাংলাদেশে অবস্থিত বিভিন্ন ভারতীয় মিশন ও পোস্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, এমনটাই অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে নয়াদিল্লির প্রত্যাশা।
ঢাকার একাধিক কূটনৈতিক সূত্র এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, দিল্লিতে গতকাল আলোচনার মূল ইস্যু ছিল বাংলাদেশে ভারতীয় মিশনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে দিল্লির উদ্বেগ। এ সময় বাংলাদেশের হাইকমিশনার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবকে দ্ব্যর্থহীনভাবে জানান, একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ ভারতীয় মিশনগুলো এবং ভারতীয় কূটনীতিকদের নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ এটা অব্যাহত রাখবে।
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৫:৩৮ অপরাহ্ণ