প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে একেবারে ভিন্ন পথ বেছে নিচ্ছেন দেশের কিছু তরুণ প্রার্থী। নির্বাচনী ব্যয়, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগের মাঝেই সামনে এলো রাজনীতির এক নতুন ধারা—জনগণের অনুদানে নির্বাচনী তহবিল গঠন।

বুধবার সকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ বিষয়ে মন্তব্য করেন।

তিনি লেখেন, প্রচলিত রাজনীতিতে ইসি নির্ধারিত ব্যয়সীমা উপেক্ষা করে ১০ থেকে ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভোট কেনা, সন্ত্রাসী লালন ও ভোটকেন্দ্র দখলের মাধ্যমে নির্বাচিত হওয়ার প্রবণতা দীর্ঘদিনের। নির্বাচিত হওয়ার পর সেই ‘বিনিয়োগ’ তুলে আনতে চলে দুর্নীতির প্রতিযোগিতা।

এর বিপরীতে কিছু তরুণ প্রার্থী জনগণের কাছ থেকে ১০, ২০, ৫০ কিংবা ১০০ টাকার ক্ষুদ্র অনুদানের মাধ্যমে ক্রাউডফান্ডিং করে নির্বাচন পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছেন। তাদের লক্ষ্য—ইসি নির্ধারিত ব্যয়সীমার মধ্যেই থাকা। পোস্টে উল্লেখ করা হয়, ভোটারপ্রতি সর্বোচ্চ ১০ টাকা ব্যয় ধরে ৫ লক্ষ ভোটারের একটি আসনে মোট ব্যয় দাঁড়ায় ৫০ লক্ষ টাকা, যা আইনসম্মত সীমার মধ্যেই পড়ে।

এই তরুণ প্রার্থীরা অঙ্গীকার করেছেন, তারা নির্ধারিত ব্যয়সীমা লঙ্ঘন করবেন না এবং নির্বাচিত হলেও দুর্নীতির পথে হাঁটবেন না। জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণে গড়া এই অর্থনৈতিক ভিত্তিকেই তারা ভবিষ্যৎ রাজনীতির শক্তি হিসেবে দেখছেন।
পোস্টের শেষাংশে উপদেষ্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন ভোটারদের দিকে—শেষ পর্যন্ত জনগণ কাকে বেছে নেবে? কালোটাকা ও পেশিশক্তির রাজনীতি, নাকি স্বচ্ছতা ও জনগণের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা নতুন ধারার রাজনীতি?

রাজনৈতিক অঙ্গনে এই মন্তব্য ইতোমধ্যেই আলোচনা তৈরি করেছে। অনেকের মতে, এটি যদি বাস্তব রূপ পায়, তবে দেশের রাজনীতিতে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে।