একটি বছর মানে শুধু সময়ের পালাবদল নয়; স্মৃতি, শোক আর না–ফেরার দেশে চলে যাওয়া মানুষদের স্মরণও। বিদায়ী বছরে দেশের শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গন হারিয়েছে এমন কিছু সাধককে, যাদের অবদান বাংলা বিনোদন জগতকে করেছে সমৃদ্ধ, দিয়েছে দিকনির্দেশনা। তাদের স্মরণেই এই আয়োজন।

অঞ্জনা রহমান

বছরের শুরুতেই শোকের খবর—৪ জানুয়ারি না ফেরার দেশে চলে যান ঢাকাই চলচ্চিত্রের সোনালি যুগের জনপ্রিয় নায়িকা অঞ্জনা রহমান। নৃত্য থেকে অভিনয়—দুই অঙ্গনেই দাপুটে উপস্থিতি ছিল তার। তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করা এই তারকা আজও দর্শকদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল।

প্রবীর মিত্র

এর মাত্র একদিন পর ৫ জানুয়ারি চলচ্চিত্রপ্রেমীরা হারান আরেক প্রিয় মুখ প্রবীর মিত্রকে। বাস্তবধর্মী অভিনয় ও চরিত্রের গভীরতা ফুটিয়ে তোলার জন্য আলাদা মর্যাদা অর্জন করেছিলেন তিনি। ‘তিতাস একটি নদীর নাম’সহ অসংখ্য কালজয়ী ছবিতে তার অভিনয় বাংলা সিনেমার ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সন্‌জীদা খাতুন

২৫ মার্চ নিভে যায় সংস্কৃতি আন্দোলনের এক উজ্জ্বল প্রদীপ। ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, রবীন্দ্রসংগীত ও সংস্কৃতিচর্চার অগ্রপথিক সন্‌জীদা খাতুন আজীবন কাজ করেছেন বাঙালির সাংস্কৃতিক চেতনা জাগ্রত রাখতে।

জীনাত রেহানা

‘সাগরের তীর থেকে’—গানটির মতোই হৃদয়ে থেকে যাওয়া কণ্ঠ জীনাত রেহানা বিদায় নেন ২ জুলাই। বেতার-টেলিভিশনে তার গাওয়া অসংখ্য গান আজও সংগীতপ্রেমীদের মনে নস্টালজিয়া জাগায়।

এ কে রাতুল

প্রয়াত নায়ক জসীমের সন্তান, সংগীতশিল্পী এ কে রাতুল ছিলেন ব্যান্ড ‘ওন্ড’-এর ভোকালিস্ট ও বেজিস্ট। তরুণদের সংগীতে নতুন ধারা এনে ২৭ জুলাই চিরবিদায় নেন তিনি। তার অকাল প্রয়াণ সংগীত অঙ্গনে গভীর শোক ফেলেছে।

ফরিদা পারভীন

লালনসংগীতের শেকড় ছুঁয়ে থাকা কণ্ঠ—ফরিদা পারভীন। ১৩ সেপ্টেম্বর চলে যান না ফেরার দেশে। একুশে পদকপ্রাপ্ত এই কিংবদন্তি শিল্পীর কণ্ঠ বাংলা লোকগীতিকে দিয়েছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

সেলিম হায়দার

২৭ নভেম্বর বিদায় নেন ফিডব্যাক ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, গিটারিস্ট সেলিম হায়দার। ‘এই দিন চিরদিন রবে’—এর মতো জনপ্রিয় গান তার সৃষ্টিশীলতারই প্রমাণ।

জেনস সুমন

২৮ নভেম্বর চলে যান কণ্ঠশিল্পী জেনস সুমন। ‘একটা চাদর হবে’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানে তিনি জায়গা করে নিয়েছিলেন সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে।

শেষ কথা

তারা হয়তো শারীরিকভাবে আর নেই, কিন্তু তাদের সৃষ্টি, কণ্ঠ, অভিনয় ও অবদানই তাদের অমর করে রেখেছে। সময় এগিয়ে যাবে, কিন্তু এই নামগুলো থেকে যাবে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে।