ফেনী-৩ (দাগনভূঁঞা–সোনাগাজী) আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ধানের শীষের প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে তাঁর যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগ সংক্রান্ত প্রমাণপত্র দাখিল না করা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শুনানিতে জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মোহাম্মদ আব্দুর রহিম মিন্টুর দ্বৈত নাগরিকত্ব বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানতে চান, প্রার্থী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না।

জবাবে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হক জানান, মিন্টু হলফনামায় নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন করার কথা উল্লেখ করেছেন। সংবিধানের ব্যাখ্যা অনুযায়ী আবেদন দাখিল করাকে যথেষ্ট মনে করে তাঁর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে শুনানিতে নাগরিকত্ব ত্যাগের চূড়ান্ত সনদ—Certificate of Loss of Nationality (CLN)—দাখিল করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এ নিয়েই প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে অভিযোগ জামায়াত সংশ্লিষ্টদের।
মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার পর বিএনপির নেতা-কর্মীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও উপস্থিত অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন। এমনকি একজন পুলিশ কর্মকর্তার হাততালির ঘটনাও সমালোচনার জন্ম দেয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংবিধান ও আরপিও অনুযায়ী প্রার্থিতা বৈধ রাখতে হলে বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের চূড়ান্ত প্রমাণ মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া আবশ্যক। হলফনামায় ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য থাকলে প্রার্থিতা বাতিল ও ফৌজদারি মামলার ঝুঁকি থাকে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হক বলেন, প্রার্থী ইমেইল যোগাযোগ ও কিছু নথি জমা দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে পাবলিক প্রসিকিউটরের মতামত নেওয়া হয়েছে। তিনি নিজেও সিদ্ধান্তে ভুল থাকতে পারে বলে উল্লেখ করে আপিলের সুযোগের কথা জানান।
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:৩৭ অপরাহ্ণ