জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে। মোট ২১টি পদের মধ্যে শীর্ষ তিনটি পদসহ ১৬টিতেই জয় পেয়েছে শিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল।

বুধবার (৮ জানুয়ারি) মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮টি ভোটকেন্দ্র ও একটি হলের ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন জকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান।

ফলাফলে দেখা যায়, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে শিবির সমর্থিত প্রার্থী মো. রিয়াজুল ইসলাম ৫ হাজার ৫৯৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত ও ছাত্রঅধিকারের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এ কে এম রাকিব পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৮৮ ভোট।

জেনারেল সেক্রেটারি (জিএস) পদে শিবির সমর্থিত আব্দুল আলিম আরিফ পেয়েছেন ৫ হাজার ৪৭৫ ভোট। অপরদিকে ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ২ হাজার ২০৩ ভোট।

অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল সেক্রেটারি (এজিএস) পদে মাসুদ রানা পেয়েছেন ৫ হাজার ২০ ভোট, যেখানে ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী তানজিল পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৪৪ ভোট। এছাড়াও শিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদে জয় লাভ করেছেন।

মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র সম্পাদক পদে মো. নুরনবী পেয়েছেন ৫ হাজার ৪০০ ভোট, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক পদে ইব্রাহীম খলিল ৫ হাজার ৫২৪ ভোট, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে সুখীমন খাতুন ৪ হাজার ৪৮৬ ভোট এবং স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে নুর মোহাম্মদ ৪ হাজার ৪৭০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।

আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে হাবীব মোহাম্মদ ফারুক পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৫৪ ভোট, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে নওশীন নাওয়ার ৪ হাজার ৪০১ ভোট, ক্রীড়া সম্পাদক পদে জর্জিস আনোয়ার নাইম ২ হাজার ৪৬৭ ভোট এবং সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণ সম্পাদক পদে মোস্তাফিজুর রহমান পেয়েছেন ৩ হাজার ৪৮৬ ভোট।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র নারী হলেও শিবির সমর্থিত প্যানেলের আধিপত্য লক্ষ্য করা গেছে। ওই হলে ১৩টি পদের মধ্যে ভিপি, জিএস ও এজিএসসহ মোট ১০টি পদে জয় পেয়েছে অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেল। অনানুষ্ঠানিক ফল অনুযায়ী, নারী হলের ভিপি পদে জান্নাতুল উম্মি তারিন, জিএস পদে সুমাইয়া তাবাসসুম এবং এজিএস পদে রেদওয়ানা খাওলা নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর ক্যাম্পাসজুড়ে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের নির্বাচনে শিবির সমর্থিত প্যানেলের এই জয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।