জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬ উপলক্ষে চাঁদপুর জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে হাইমচর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নীলকমল ওছমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়। নিয়মিতভাবে পাবলিক পরীক্ষায় ভালো ফলাফল ও বহুমাত্রিক শিক্ষা কার্যক্রমে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে বিদ্যালয়টি এ সম্মাননা অর্জন করে।

সোমবার (১২ মার্চ) জেলা শিক্ষা সপ্তাহের সমাপনী অনুষ্ঠানে জেলা শিক্ষা অফিসের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলার ৮ উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে নীলকমল ওছমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়কে শ্রেষ্ঠ ঘোষণা করা হয়।

জানা গেছে, প্রথমে উপজেলা পর্যায়ে প্রতিটি উপজেলা থেকে একটি করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে নির্বাচন করা হয়। পরবর্তীতে এসব প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে জেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করা হয়।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ফারুকুল ইসলাম বলেন,
“কোনো প্রতিষ্ঠানকে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হিসেবে নির্বাচিত করতে একাধিক বিষয় মূল্যায়ন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা, শিক্ষকদের যোগ্যতা ও পাঠদানের দক্ষতা, ক্রীড়াক্ষেত্রে নৈপুণ্য, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা, সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ও সাফল্য, স্কাউট ও গার্লস গাইড কার্যক্রম এবং যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় দিবস পালন।”

তিনি আরও জানান, মাল্টিমিডিয়া ব্যবহারের মাধ্যমে আধুনিক পাঠদান, ই-লার্নিং পদ্ধতির প্রয়োগসহ প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থাকেও মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়। জেলা পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান পরবর্তীতে বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।

শ্রেষ্ঠ হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন,
“আমি চাই জেলার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই এগিয়ে আসুক। একে অপরকে অনুসরণ করে যদি সবাই শিক্ষার মানোন্নয়নে মনোযোগী হয়, তবেই এই প্রতিযোগিতার প্রকৃত সার্থকতা পাওয়া যাবে। এই অর্জনের জন্য বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতায়ই একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে যায়।”

উল্লেখ্য, নীলকমল ওছমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৯২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ইতিহাসে বিদ্যালয়টি সাতবার মেঘনা নদীর ভাঙনের কবলে পড়লেও বর্তমানে হাইমচর উপজেলার জনতা বাজারের পূর্ব পাশে স্থায়ীভাবে অবস্থান করছে। নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে প্রতিষ্ঠানটি আজ শিক্ষাক্ষেত্রে জেলার শীর্ষ অবস্থানে পৌঁছেছে।