ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টদের (নন-মেডিক্যাল বায়োকেমিস্ট) প্রতি বৈষম্যমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নির্দেশনা প্রত্যাহার ও সংশোধনের দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারী) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচির আয়োজন করে প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান সমিতি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজিবিভাগের অধ্যাপক মো রেজাউল করিম (২) বলেন এই ধারা জারির ফলে মাইক্রো বায়োলজিস্ট বায়োকেমিস্টদের একদিকে যেমন মান-মর্যাদাকে ক্ষুন্ন করা হচ্ছে দ্বিতীয়ত তাদের পেশাগত দক্ষতাকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না এবং তাদেরকে অসম্মান করা হচ্ছে। আসলে কেউ যদি তার যোগ্যতা ও দক্ষতার সঠিক মূল্যায়ন না পায় তাহলে তার কাজের উৎসাহ থাকে না এবং এই প্রফেশনটা আর ভালোভাবে গড়ে উঠবে না।

তিনি আরো বলেন যখন আমি আমার কাজের সঠিক মূল্যায়ন পাব তখন আমি আমার কাজ করতে আর উৎসাহিত হব কিন্তু আমাদের বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যেমন অবহেলিত তেমনই ডাক্তারদের কাছে কুক্ষিগত হয়ে আছে , তারা স্বাস্থ্য সেবার নামে যেভাবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে জিম্মি করে রেখেছে সরকারি এই ধারে যুক্ত করে সেটাকে আর উৎসাহিত করেছে এটার আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে এই ধারা বাতিল করে বায়োকেমিস্ট মাইক্রোবায়োলজিস্টদের সিগনেটারি অথরিটি দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি

সিনেট সদস্য এবং মাক্রোবায়োলজি শিক্ষার্থী ফাহিম রেজা বলে ০৭/০১/২০২৬ (সংশোধিত) তারিখে জারিকৃত থ্রি-লেভেল (থিলজি) ল্যাবের জন্য জরুরি নির্দেশনার ৫ নম্বর ইস্যুতে বলা হয়েছে— “রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকগণকে বিএমডিসি রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্রাজুয়েট হতে হবে”। এই নির্দেশনা নন-মেডিক্যাল ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টদের পেশাগত মর্যাদা ও অধিকারকে অস্বীকার করে। একটা ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের আছে তারমধ্যে যদি যারা ডিজিস্ট ডায়াগোনিস্ট করবেন তাদের সাইনিং অথোরিটি যদি তুলে নেওয়া হয়, তাহলে বাংলাদেশ শিক্ষা ব্যাবস্থায় যে সিন্ডিকেট আছে তা আরো শক্তিশালী হবে

একজন শিক্ষার্থী বলেন দীর্ঘদিন ধরে নন-মেডিক্যাল বায়োকেমিস্টরা দক্ষতার সঙ্গে ল্যাবরেটরি ডায়াগনস্টিক সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। অথচ এই ধরনের নির্দেশনার মাধ্যমে তাদের পেশাগতভাবে কোণঠাসা করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অবিলম্বে উক্ত নির্দেশনা সংশোধন করে নন-মেডিক্যাল ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টদের যথাযথ স্বীকৃতি ও অধিকার নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তারা।

উল্লেখ্য, মানববন্ধনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।