পাহাড় ও লেকঘেরা অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি রাঙ্গামাটিতে অবস্থিত রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে দেশের দ্বিতীয় জাতীয় ট্যুরিজম কনফারেন্স।
রাবিপ্রবি ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের যৌথ আয়োজনে দুইদিনব্যাপী এ কনফারেন্সে পর্যটন শিল্পের টেকসই উন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক পর্যটন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
শুক্রবার বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-১ এর সম্মেলন কক্ষে কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বক্তব্য দেন রাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেন,
“এই কনফারেন্স রাঙ্গামাটিকে কেন্দ্র করে পর্যটন পেশাজীবী ও একাডেমিক ব্যক্তিদের মধ্যে একটি কার্যকর নেটওয়ার্ক তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করেছে। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের পর্যটন খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।”
তিনি রাঙ্গামাটির বিপুল পর্যটন সম্ভাবনা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের কথাও তুলে ধরেন।
রাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান বলেন,
“ভবিষ্যতে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের পর্যটন গবেষণা ও উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর। তিনি রাঙ্গামাটিকে ইকো ট্যুরিজম, কালচারাল ট্যুরিজম ও কমিউনিটি ট্যুরিজমের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এলাকা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সম্ভাবনার পাশাপাশি বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোর কথাও তুলে ধরেন।
প্লেনারি সেশনে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হাসান এবং বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম।
কনফারেন্সের দ্বিতীয় দিনে টেকসই পর্যটন, পর্যটন নীতি ও উন্নয়ন, পর্যটনে প্রযুক্তি ব্যবহার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিগ ডেটা ও উদ্ভাবন, কমিউনিটি ও সংস্কৃতি, হালাল ট্যুরিজম এবং পর্যটকদের আচরণ বিষয়ে একাধিক টেকনিক্যাল সেশন অনুষ্ঠিত হয়।
কনফারেন্সে অংশ নেন সী পার্ল হসপিটালিটি গ্রুপ, অক্সফোর্ড ইমপেক্ট গ্রুপ, ইউএনডিপি বাংলাদেশসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটিসহ আরও অনেক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
শনিবার বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বক্তব্য দেন রাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী এবং নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল। কনফারেন্স সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিনের সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কনফারেন্সের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা জানান, এই কনফারেন্স বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে টেকসই উন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার গুরুত্ব নতুনভাবে তুলে ধরেছে। রাঙ্গামাটির মতো অঞ্চলকে পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ