বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পে আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন, অটোমেশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার ও সম্ভাবনা নিয়ে দ্য ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইইবি)-এর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের উদ্যোগে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর রমনার আইইবি সদর দপ্তরের শহীদ প্রকৌশলী ভবনের কাউন্সিল হলে “ইন্টিগ্রেটিং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইন টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি অটোমেশন” শীর্ষক এই সেমিনার আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইইবি’র সভাপতি ও রাজউকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম (রেজু)। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আইইবি’র সহ-সভাপতি (অ্যাকাডেমিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল) ইঞ্জিনিয়ার খাঁন মঞ্জুর মোরশেদ, আইটিইটি-বাংলাদেশের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এহসানুল করিম কায়সার, মাইক্রো ফাইবার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামসুজ্জামান (সিআইপি), আইইবি’র সহ-সভাপতি (এইচআরডি) ইঞ্জিনিয়ার শাইখ আল আমিন, সহ-সভাপতি (সার্ভিসেস অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার) ইঞ্জিনিয়ার নিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়া এবং আইটিইটি-বাংলাদেশের সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. এনায়েত হোসেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইইবি’র সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইঞ্জি. মো. সাব্বির মোস্তাফা খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) টেক্সটাইল মেশিনারি ডিজাইন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. শেখ মো. মমিনুল আলম।
সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন আইইবি’র টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মহিউদ্দিন আহমেদ (সেলিম)। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিভাগের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. মইদুল ইসলাম (মঈদ) ও আইইবি সেন্ট্রাল কাউন্সিল মেম্বার ইঞ্জিনিয়ার সুমায়েল মো. মল্লিক। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ভাইস-চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. সায়েদুর রহমান।
সভাপতির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, “বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্প আমাদের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। তবে বর্তমান বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে প্রযুক্তিনির্ভর অটোমেশন ও আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার অপরিহার্য। কম সময়ে মানসম্মত পণ্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে না পারলে আমরা পিছিয়ে পড়ব। সঠিকভাবে অটোমেশন প্রয়োগ করা গেলে উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি শতভাগ গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব।”
মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক ড. শেখ মো. মমিনুল আলম বলেন, “বর্তমানে সুতার মান যাচাইয়ের জন্য ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়। আমরা একটি স্বল্পমূল্যের সেন্সরভিত্তিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছি, যেখানে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সুতার সূক্ষ্মতা, অনিয়ম ও রঙের ভিন্নতা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব। এতে সময়, শ্রম ও খরচ কমে টেক্সটাইল ও ডেনিম শিল্প আরও দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক হবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার এহসানুল করিম কায়সার বলেন, “আইটিইটি একটি অরাজনৈতিক পেশাজীবী সংগঠন। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের এই সময়ে এআইভিত্তিক এমন সেমিনার প্রকৌশলীদের দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
আইইবি’র সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শাইখ আল আমিন বলেন, “নতুন প্রযুক্তি এলে শুরুতে ভীতি কাজ করলেও সময়ের সাথে তা গ্রহণ করাই সাফল্যের চাবিকাঠি। উদ্যোক্তাদের উচিত এমন প্রযুক্তি বেছে নেওয়া যা উৎপাদন খরচ কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসায়িক লাভ নিশ্চিত করে।”
অন্য এক বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার নিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়া গবেষকদের উদ্দেশে বলেন, “শিল্পক্ষেত্রে সরাসরি প্রয়োগযোগ্য, কার্যকর ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তি উদ্ভাবনের দিকেই গবেষণাকে গুরুত্ব দিতে হবে।”
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:০০ অপরাহ্ণ