ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামানের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদ। তবে এই দাবি ছাত্রদলের কোনো সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নয় বলে স্পষ্ট করেছেন সংগঠনটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ। একই সঙ্গে সাজিদ হত্যার বিচার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অন্যান্য ছাত্রসংগঠনও প্রক্টরের পদত্যাগ দাবির সঙ্গে একমত নয় বলে জানিয়েছেন।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন চত্বরে সাজিদ হত্যার বিচার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তৃতাকালে প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করেন ছাত্রদল আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদ।

তিনি বলেন, প্রক্টর পদত্যাগ না করলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে অপসারণ করতে হবে, অন্যথায় বুধবার উপাচার্য কার্যালয় ঘেরাও করা হবে।

এই বক্তব্যের পরপরই ছাত্রদলের ভেতরেই মতভিন্নতা প্রকাশ পায়। সংগঠনটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানান, প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি ছাত্রদলের কোনো সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি আহ্বায়কের ব্যক্তিগত বক্তব্য।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অন্যান্য ছাত্রসংগঠনও একই অবস্থান নেয়। এ বিষয়ে শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন,
“প্রক্টরের পদত্যাগের দাবি ছাত্রদল আহ্বায়কের একান্ত ব্যক্তিগত। আমরা এই দাবির সঙ্গে একমত নই। আমাদের দাবি একটাই—সাজিদ হত্যার সুষ্ঠু বিচার এবং বিচার বিলম্বের কারণ উদঘাটন।”

মানববন্ধনে উপস্থিত বোরহান উদ্দিন বলেন,
“আমি প্রক্টরের পদত্যাগ দাবির সঙ্গে একমত নই। শুধু একজনের পদত্যাগ চেয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। তাছাড়া আমাকে কর্মসূচির আয়োজক বলা হলেও আমি আয়োজক ছিলাম না, শুধু অংশগ্রহণ করেছি।”

ইবি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক সহ-সমন্বয়ক তানভীর মাহমুদ মন্ডলও প্রক্টরের পদত্যাগ দাবির বিরোধিতা করে বলেন,
“এটি ছাত্রদলের বক্তব্য, আমাদের নয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে সাজিদ হত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলনে অংশ নিয়েছি।”
তবে শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাসুদ রুমি মিথুন বলেন,
“প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারির সিদ্ধান্তই সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত। সাহেদ আহমেদের বক্তব্যের সঙ্গে আমি একমত। এ বিষয়ে আনোয়ার পারভেজ উপস্থিত ছিলেন না।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন,
“ক্যাম্পাসের সিসিটিভি মনিটরিং সিস্টেম প্রক্টর অফিসে হস্তান্তরের বিষয়ে আইসিটি সেল থেকে চিঠি দেওয়া হলেও এখনো তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। হলের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের দায়িত্ব হল প্রভোস্টের। সাজিদ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সিআইডিকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হচ্ছে। আমি ন্যায় ও সত্যের পথে থেকে দায়িত্ব পালন করছি। শিক্ষার্থীরা চাইলে এক মুহূর্তও এ পদে থাকবো না।”

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ জুলাই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হলসংলগ্ন পুকুর থেকে আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ৩ আগস্ট প্রকাশিত ভিসেরা রিপোর্টে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর থেকেই নিরাপদ ক্যাম্পাস ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।