জাপানের সাকুরা সায়েন্স এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে অংশ নিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) সাতজন কৃতী শিক্ষার্থী জাপান যাচ্ছেন। জাপান সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এজেন্সি (জেএসটি)-এর সহায়তায় পরিচালিত এই কর্মসূচিটি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাপানের ইউনিভার্সিটি অব ইয়ামানাশির মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)-এর আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।

ইনভাইটেড ফ্যাকাল্টি হিসেবে প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সয়েল, ওয়াটার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তারেক বিন সালাম।

প্রোগ্রামে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা হলেন— সয়েল, ওয়াটার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ডিসিপ্লিনের গাজী ইকরামুল হক রাকিব, তাসফিয়া জামান রোশনী, শিউলি চাকমা, দেবাশীষ অধিকারী, বিজ্ঞ দাস অতনু, জয় কুমার ঘোষ এবং অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের মো. সজীব মিয়া।

এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় শিক্ষার্থীরা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনর রশীদ খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তারা এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে উপ-উপাচার্যকে অবহিত করেন।

শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে উপ-উপাচার্য বলেন, “এই ধরনের আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। শিক্ষার্থীদের অর্জিত অভিজ্ঞতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” একই সঙ্গে তিনি ইয়ামানাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কলারশিপ প্রোগ্রামের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

সৌজন্য সাক্ষাৎকালে আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আশিক উর রহমান এবং সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তারেক বিন সালাম।

আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা জাপানে অবস্থান করবেন। এ সময় তারা ইউনিভার্সিটি অব ইয়ামানাশিতে আয়োজিত এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের আওতায় একাডেমিক ও ব্যবহারিক বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেবেন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশে কৃষি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে উপস্থাপনা, দুই দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মতবিনিময়, সেমিনার ও গ্রুপ ডিসকাশন।

এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা কুরোফুজি ফার্ম পরিদর্শনের মাধ্যমে জাপানের জেএএস-সার্টিফায়েড অর্গানিক কৃষি ব্যবস্থা, অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ও কৃষি-লাইভস্টক সমন্বয় সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন। পাশাপাশি সম্পূর্ণ কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত স্মার্ট এগ্রিকালচারের মাধ্যমে টমেটো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এগ্রিমাইন্ড কোং লিমিটেড এবং ইয়ামানাশি প্রিফেকচারের বিভিন্ন কৃষি উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন।

প্রোগ্রামের মাধ্যমে জাপান ও বাংলাদেশের কৃষিখাতের চ্যালেঞ্জ—বিশেষ করে সয়েল স্যালাইনিটি ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যার সমাধান নিয়ে যৌথ গবেষণা ও একাডেমিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্য রয়েছে।