চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের গবেষণা, উদ্ভাবন এবং আন্তঃবিভাগীয় জ্ঞানচর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে “স্কলার্স কনভার্জেন্স : রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সামিট ২০২৬” শীর্ষক আন্তর্জাতিক গবেষণা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৩১শে জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদ মিলনায়তনে এটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মুহাম্মদ ইয়াহিয়া আখতার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবি উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান।

সম্মেলনটির সার্বিক আয়োজনে ছিল জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের রেজিস্ট্রেশনভুক্ত এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানভিত্তিক সংগঠন ‘চিটাগং ইউনিভার্সিটি সায়েন্টিফিক সোসাইটি (সিইউএসএস)’।

এই সম্মেলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থী, গবেষক ও পেশাজীবীদের জন্য একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারী সকলের জন্য মৌখিক ও পোস্টার প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে নিজেদের গবেষণা উপস্থাপনের সুযোগ ছিল।

উক্ত গবেষণা সম্মেলনটি সাজানো হয়েছিল চারটি মূল থিমকে ঘিরে। থিমগুলো হলো— ভৌত ও রাসায়নিক বিজ্ঞান; জীবন ও স্বাস্থ্য বিজ্ঞান; প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও তথ্য বিজ্ঞান; এবং পৃথিবী, পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন বিজ্ঞান। এছাড়াও সম্মেলনটিতে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ের খ্যাতনামা শিক্ষক ও গবেষকরা সেশন চেয়ার, কীনোট স্পিকার এবং অতিথি বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

বিভিন্ন থিমে উল্লেখযোগ্য বক্তাদের মধ্যে ‘ভৌত ও রাসায়নিক বিজ্ঞান’ থিমের সেশন চেয়ার ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের অধ্যাপক ড. একেএম মাঈনুল হক মিয়াজী। কীনোট স্পিকার হিসেবে ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হোসেন ও ড. কমল দে। অতিথি বক্তা হিসেবে ছিলেন পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক মো. এবাদত হোসেন।

প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও তথ্য বিজ্ঞান থিমের সেশন চেয়ার ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোরশেদুল হক। কীনোট স্পিকার হিসেবে ছিলেন চীনের শানডং ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ম্যাথমেটিক্সের অধ্যাপক ড. জিহুয়া ঝ্যাং এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. জি. এম. সাদিকুল ইসলাম। অতিথি বক্তা হিসেবে ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. লিপন চন্দ্র দাশ।

জীবন ও স্বাস্থ্য বিজ্ঞান থিমের সেশন চেয়ার ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এ. এম. মাসুদুল আজাদ চৌধুরী। কীনোট স্পিকার হিসেবে ছিলেন চবির সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মাহবুব হাসান। অতিথি বক্তা হিসেবে ছিলেন চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ড. মিতাশ্রী বড়ুয়া এবং সাউদার্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ড. শাফিকা আফরোজ।

পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন বিজ্ঞান থিমের সেশন চেয়ার হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক ড. এম. শফিকুল ইসলাম। কীনোট স্পিকার হিসেবে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফির ড. টোনিয়া অ্যাস্ট্রিড কাপুয়ানো। অতিথি বক্তা হিসেবে ছিলেন চবির অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ নাথ এবং সহযোগী অধ্যাপক ড. সোহাগ মিয়াহ।

সম্মেলনটির সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন চিটাগং ইউনিভার্সিটি সায়েন্টিফিক সোসাইটির উপদেষ্টা এবং উক্ত আয়োজনের কনফারেন্স চেয়ার অধ্যাপক ড. আল ফোরকান। এছাড়াও সূচনালগ্নে উপস্থিত সকলকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনটির জয়েন্ট জেনারেল সেক্রেটারি ও কনফারেন্স সেক্রেটারি কাকন সাহা এবং কীনোট কো-অর্ডিনেটর অনন্যা দে।

সম্মেলনের শেষে উপস্থিত সকলকে গবেষণামুখী অনুপ্রেরণা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনটির উপদেষ্টা ও কনফারেন্স প্যাট্রন অধ্যাপক ড. লায়লা খালেদা। সংগঠনটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সম্মেলনের আহ্বায়ক ছিলেন আবিদুল মওলা খান, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সহ-পরিচালক মোহাম্মদ ইকরামুল হক ইকরাম এবং জয়েন্ট জেনারেল সেক্রেটারি ও সম্মেলনের সার্বিক সমন্বয়ক ছিলেন প্রতীক দত্ত।

সম্মেলনে সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনটির সভাপতি এবং সম্মেলনের প্রধান পরিচালক কে. এম. সিফাত শাহরীন স্বচ্ছ। এছাড়া এতে সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন সম্মেলনের মিডিয়া অ্যান্ড প্রেস সেক্রেটারি রুফাইদা সিদ্দিকী এবং যোগাযোগ বিষয়ক এক্সিকিউটিভ মোবাশ্বিরা আনিকা ও সংগঠনের সাধারণ সদস্য তামিম সরকার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহিয়া আখতার বলেন, “নিত্যনতুন আবিষ্কার ও গবেষণা ছাড়া মানবজাতির অগ্রগতি সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী হওয়ার পাশাপাশি গবেষণাভিত্তিক কাজের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও সমৃদ্ধ করতে হবে।”

উল্লেখ্য, দিনব্যাপী এই গবেষণা সম্মেলনে ছিল উদ্বোধনী অধিবেশন, কীনোট স্পিকারদের প্যানেল আলোচনা, মৌখিক ও পোস্টার প্রেজেন্টেশন, বিশেষ অতিথিদের বক্তব্য, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন।

অংশগ্রহণকারীদের জন্য ছিল অফিসিয়াল কনফারেন্স কিট, সার্টিফিকেট, গবেষণা উপস্থাপনের সুযোগ, একাডেমিক নেটওয়ার্কিং ও গবেষণাভিত্তিক কোলাবোরেশনের সুযোগ, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও লজিস্টিক সহায়তা এবং খাবার ও রিফ্রেশমেন্ট।

গবেষণা সম্মেলনটির কো-অর্গানাইজার ছিল জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর। সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল ব্র্যাক এবং সহযোগিতায় ছিল রিসার্চ বাডি এআই। এছাড়াও স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে ছিল জনতা ব্যাংক, কিটস পার্টনার হিসেবে ছিল সেন্টার ফর ড্রাগ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, বেভারেজ পার্টনার হিসেবে ছিল নেসক্যাফে এবং মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল দেশের স্বনামধন্য কয়েকটি সংবাদমাধ্যম।