কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ যেন পিছু ছাড়ছে না। নিম্নমানের খাবার, অতিরিক্ত মূল্য, অপরিচ্ছন্নতা ও অব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বহিরাগত অতিথি ও পর্যটকদের আধিক্যের কারণে নিয়মিত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
আজ রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় বহিরাগত পর্যটকদের কারণে খাবার খেতে পারেনি বলে ছাত্র পরামর্শকের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে একাধিক শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দুপুরের ব্যস্ত সময়ে ক্যাফেটেরিয়ায় বসার মতো একটি টেবিলও খালি ছিল না। প্রায় পুরো ক্যাফেটেরিয়া বহিরাগত অতিথিতে পরিপূর্ণ থাকায় শিক্ষার্থীদের দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে অথবা খাবার না খেয়েই ফিরে যেতে হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, কেউ কেউ খাবার পেলেও সব আইটেম পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি খাবারের মান নিম্নমানের, সময়মতো টেবিল পরিষ্কার না করা, পানির সংকট ও প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহে অবহেলার অভিযোগও দীর্ঘদিনের।
ক্যাফেটেরিয়া সূত্রে জানা যায়, গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মহিউদ্দিন বহিরাগত অতিথিদের জন্য খাবারের অর্ডার দিয়েছিলেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,
“আমার কিছু অতিথি আসবে জানিয়ে আগেই ক্যাফেটেরিয়া কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আমাকে আশ্বস্ত করেছিলেন, এতে শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা হবে না। সেই নিশ্চয়তা পেয়েই আমি অর্ডার দিয়েছি।”
ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান আস সাদী বলেন,
“আজ ক্যাম্পাসের ‘অন ডে’। অথচ পুরো ক্যাফেটেরিয়া বাইরের লোকজন দিয়ে ভরে গেছে। একটি টেবিলও খালি নেই। এত কোলাহল যে শান্তভাবে বসে খাবার খাওয়ার সুযোগ নেই। যদি শিক্ষার্থীদের বসার জায়গাই না থাকে, তাহলে এই ক্যাফেটেরিয়া আমাদের জন্য কেন?”
গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান অভিযোগ করে বলেন,
“ক্যাফেটেরিয়া কর্তৃপক্ষ বহিরাগতদের বেশি গুরুত্ব দেয়। আমি যখন বসি তখন টেবিল পরিষ্কার ছিল না, পানি ছিল না। অথচ বাইরের অতিথিরা আসার সঙ্গে সঙ্গে তাদের জন্য টেবিল পরিষ্কার করা হয়েছে। এমনকি আমাকে দ্রুত টেবিল ছাড়তেও বলা হয়। বাধ্য হয়ে খাবার না খেয়েই চলে আসি। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত এই অব্যবস্থাপনার স্থায়ী সমাধান করুক।”
এ বিষয়ে ক্যাফেটেরিয়ার সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন,
“এক্ষেত্রে আমাদের কিছুটা ভুল হয়েছে। আমরা আগে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারিনি। শিক্ষার্থীদের জন্য জায়গা রাখা হয়েছিল, কিন্তু পরে সেখানে অতিথিরা বসে যান। এতে শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে আমরা আরও সতর্ক থাকব।”
অভিযোগের পর বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শক সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম।
তিনি বলেন,
“দুপুরে গিয়ে দেখেছি শিক্ষার্থীরা বসার জায়গা পাচ্ছিল না। ক্যাফেটেরিয়া কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তারা আশ্বস্ত করেছে, ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের খাবারের সময় ক্যাফেটেরিয়া শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্যই উন্মুক্ত থাকবে। আশা করছি এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হবে না।”
প্রকাশিত: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:০৫ অপরাহ্ণ