বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের শিক্ষার্থীদের প্রভাষক (আরবী) পদে আবেদনের যোগ্যতা সংক্রান্ত বৈষম্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ রা ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২ টায় রাজশাহী
বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সিনেট ভবন সংলগ্ন প্যারিস রোডে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে আরবী বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এমপিও নীতিমালার খসড়ায় আরবী প্রভাষক পদের জন্য ‘মাস্টার্স’ পাসের শর্ত আরোপ করে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের স্নাতক ও সমমানের শিক্ষার্থীদের আবেদন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, যা স্পষ্টভাবে বৈষম্যমূলক। তারা অবিলম্বে এই বৈষম্য প্রত্যাহার করে সকল স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এ বিষয়ে আরবি বিভাগের শিক্ষক রিয়াজুল ইসলাম বলেন, আজকে একটি যৌক্তিক দাবির ক্ষেত্রে একমত পোষণ করার জন্য একত্র হয়েছি। আমাদের যে এমপিও ভুক্ত মাদ্রাসা দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন এমপিও নীতিমালা গতকাল প্রকাশ করেছে। এই নীতিমালা প্রকাশ করার পর অনেক দাবির অসঙ্গতি দেখা যায়। আমি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি রুট লেভেল থেকে আপার লেভেল পর্যন্ত ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত ভাইস চেন্সেলর মহোদয়, মাদ্রাসা বোর্ডের সম্মানিত চেয়ারম্যান মহোদয়, সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান এই বিষয়টিকে খতিয়ে দেখে ইসলামিক স্টাডিজ এবং আরবি ভাষা ও সাহিত্য সম্পৃক্ত যত শিক্ষার্থী আছে তাদের সাথে যেন কোন রকম বৈষম্য না হয়।

তিনি আরও বলেন, সকল দিক বিবেচনা করে যেন এর সুষ্ঠু সমাধান দিয়ে চূড়ান্ত ভাবে যেন এই নীতিমালা প্রকাশ করা হয়। যদি করো প্রতি হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার মতো কোনো খসড়া প্রকাশ করা হয় তাহলে এই ছাত্র সমাজ এমন বৈষম্য মেনে নিবে না। আমরা আশা করছি যে, অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে এই নীতিমালা সম্পূর্ণ সংশোধন করে ছাত্রদের যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে যেন প্রকাশ করা হয়।

আরবি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান বলেন, আপনারা জানেন বর্তমানে এমপিওভুক্ত বেসরকারি যে সেক্টরগুলো রয়েছে, সেখানে শুধুমাত্র সুপরিকল্পিত ভাবে আরবি বিভাগকে অপমান এবং বঞ্চিত করার জন্য যে খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে এটার বিরুদ্ধে আমরা এখানে দাড়িয়েছি, আপনারা জানেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়,ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের আরবি বিভাগ প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। সেখানে প্রতিবছর শত শত ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হয় এবং ডিগ্রী লাভ করে চলে যায়, কিন্তু বর্তমান এই খসড়া যদি প্রতিষ্ঠিত হয়,তাহলে প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী বেকার হয়ে বের হবে।

তিনি হুশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন আমাদেরকে আপ্যায়ন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি বিভাগ ভর্তি করিয়ে এই বৈষম্য করে গলা টিপে হত্যা করা হচ্ছে। আমরা দীপ্ত কন্ঠে বলতে চাই আমাদের আরবি বিভাগ পড়ার জন্য আলাদা যোগ্যতা লাগে, কুরআন, হাদিসের, আরবি গ্রামারের জ্ঞান নিয়ে পড়তে হয়, আর আমরা আরবি বিভাগে পড়ে যদি মাদরাসা প্রভাষক পদে যদি আবেদন করতে না পারি তাহলে বলতে হয় আমাদেরকে সুপরিকল্পিত ভাবে দাবিয়ে রাখা হচ্ছে। আমাদেরকে দাবিয়ে রাখা যাবে না আমরা বিভিন্ন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যায়ারম্যান, ভিসি সম্মানিত শিক্ষকদেরকে বলছি, আমাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিতে হবে, আমাদের কর্মসংস্থান সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে রাখা যাবে না। অন্যথায় আমরা আর দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবো।

উল্লেখ্য, পরবর্তি নীতিমালা প্রণয়নের আগেই এই বৈষম্যমূলক নীতিমালা প্রত্যাহার চান শিক্ষার্থীরা। অন্যথায় দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন তারা।