খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে গঠিত স্টুডেন্ট স্কয়ার ফাউন্ডেশনের আয়োজনে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, মানসিক সুস্থতা, ক্যারিয়ার উন্নয়ন ও সামাজিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ‘ওয়ান মিনিট ইনভেস্টমেন্ট প্রজেক্ট’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী দেলদার আহম্মেদ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
আয়োজকরা জানান, স্টুডেন্ট স্কয়ার ফাউন্ডেশনের মূল দর্শন হলো— সচেতন, সক্ষম ও সুস্থ শিক্ষার্থীর মাধ্যমেই টেকসই পরিবর্তনের সূচনা হয়। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সংগঠনটি শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী মির্জা মাহি বলেন, শিক্ষার্থীদের কো-কারিকুলার কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ করা জরুরি, কারণ এসব কার্যক্রম যোগাযোগ দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে, যার ভালো ও খারাপ—দুটো দিকই রয়েছে। সঠিক ও দায়িত্বশীলভাবে এআই ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সৃজনশীলতা ও দক্ষতা আরও বিকশিত করতে পারে।
ডিভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী ফারহানা আফরিন তার বক্তব্যে বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও দূষণমুক্ত পরিবেশে বসবাস নিশ্চিত করা জরুরি, যা তাদের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়ক। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কথা উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে সুস্থ ও বাসযোগ্য পৃথিবী উপহার দিতে বনায়ন বৃদ্ধি, পরিকল্পিত নগরায়ন এবং প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো প্রয়োজন।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, স্টুডেন্ট স্কয়ার ফাউন্ডেশন তাদের লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিন ধাপের সমন্বিত কাউন্সেলিং মডেল অনুসরণ করছে। এর মধ্যে রয়েছে গ্রুপ কাউন্সেলিং, ওয়ান-টু-ওয়ান (ব্যক্তিগত) কাউন্সেলিং এবং অভিভাবক অ্যাডভোকেসি।
স্টুডেন্ট স্কয়ার ফাউন্ডেশনের বিশ্বাস— সক্ষম, সচেতন ও সুস্থ শিক্ষার্থীরাই টেকসই উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মানবিক সমাজ গঠনের প্রধান চালিকাশক্তি। শিক্ষা, মানসিক সুস্থতা ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে সংগঠনটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ণ