বিদেশে কর্মরত কোনো প্রবাসী বাংলাদেশি ইন্তেকাল করলে রাষ্ট্রীয় খরচে ও পূর্ণ মর্যাদার সঙ্গে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ঘোষিত দলের নির্বাচনী ইশতেহার ‘জনতার ইশতেহার’-এ এই প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, “প্রবাসীরা শুধু অর্থ উপার্জনের যন্ত্র নন, তারা এই রাষ্ট্রের সম্মানিত নাগরিক। জীবিত অবস্থায় যেমন রাষ্ট্রের প্রতি তাদের দায় রয়েছে, তেমনি মৃত্যুর পরেও রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। কোনো প্রবাসী বাংলাদেশি বিদেশে ইন্তেকাল করলে রাষ্ট্রীয় খরচে এবং পূর্ণ সম্মানের সঙ্গে তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রবাসীরা বছরের পর বছর পরিবার থেকে দূরে থেকে বিদেশের মাটিতে কঠোর পরিশ্রম করেন। অনেকেই অমানবিক পরিবেশে কাজ করেন, কেউ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান, কেউ অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। অথচ বাস্তবতা হলো— মৃত্যুর পর তাদের মরদেহ দেশে আনার সামর্থ্য অনেক পরিবারের থাকে না। ফলে মরদেহ বিদেশের মাটিতেই পড়ে থাকে, যা কোনো সভ্য রাষ্ট্রের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, “একটি রাষ্ট্র তখনই মানবিক হয়, যখন সে তার নাগরিককে জীবনের শেষ মুহূর্তেও একা ফেলে না। আমরা সরকার গঠন করতে পারলে কোনো প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফেরাতে পরিবারকে আর দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে না। রাষ্ট্র নিজ দায়িত্বে, রাষ্ট্রীয় খরচে এবং মর্যাদার সঙ্গে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনবে।”
প্রবাসীদের অবদান প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি হলো প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স। অথচ তাদের অবদানকে কেবল পরিসংখ্যানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। “প্রবাসীরা শুধু ‘রেমিটেন্স যোদ্ধা’ নন, তারা এই দেশের গর্ব ও অবিচ্ছেদ্য অংশ,”—যোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, একজন প্রবাসী বিদেশে মারা গেলে তার পরিবার শুধু একজন স্বজনকেই হারায় না, বরং নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়ে। সে মুহূর্তে রাষ্ট্র পাশে না দাঁড়ালে রাষ্ট্রের নৈতিকতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
ডা. শফিকুর রহমান জানান, প্রবাসীদের অবসরকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও প্রবাসীদের যৌথ অংশগ্রহণে একটি ‘সোশ্যাল রিভলভিং ফান্ড’ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই ফান্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা দেশে ফিরে সম্মানজনক জীবনযাপন করতে পারবেন এবং অসুস্থতা কিংবা দুর্দিনে রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা পাবেন।
তিনি বলেন, “আমরা চাই না একজন প্রবাসী সারাজীবন দেশের জন্য শ্রম দিয়ে শেষ বয়সে অসহায় হয়ে পড়ুক। রাষ্ট্র তার দায়িত্ব নেবে— এটাই ইনসাফ।”
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর ‘জনতার ইশতেহার’ কোনো কাগুজে প্রতিশ্রুতি নয়; এটি একটি মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থার রূপরেখা। “যে রাষ্ট্র তার প্রবাসীকে জীবিত অবস্থায় সম্মান দেয় না, মৃত্যুর পর মর্যাদা দেয় না— সে রাষ্ট্র টেকসই হতে পারে না,”—বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, প্রবাসী সংগঠনের নেতা এবং সুশীল সমাজের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ণ