আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ৩৭ দফা স্বাস্থ্য পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। পরিকল্পনায় বিনামূল্যে চিকিৎসা, জাতীয় স্বাস্থ্যবীমা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যখাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার রয়েছে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল শেরাটনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের নেতারা এই পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

ইশতেহারে বলা হয়েছে, দেশের বর্তমান স্বাস্থ্যব্যবস্থা জনগণের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ। ফলে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসার জন্য ঢাকামুখী হতে হয়। এই চাপ কমাতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়িয়ে পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনায় শিশু (৫ বছরের নিচে) ও প্রবীণ (৬০ বছরের ঊর্ধ্ব) নাগরিকদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি ধাপে ধাপে জাতীয় স্বাস্থ্যবীমা চালু এবং প্রতিটি নাগরিকের জন্য ডিজিটাল হেলথ কার্ড প্রবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রথম ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে সেবার মান শতভাগ সক্ষমতায় উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার সংস্কার, যন্ত্রপাতি মেরামত ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে।

দীর্ঘদিনের জনবল সংকট মোকাবিলায় চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্ট ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ সব শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগের অঙ্গীকার করেছে জামায়াত। স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ ধাপে ধাপে তিনগুণ বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসক-রোগী অনুপাত নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে পর্যায়ক্রমে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল, কমপক্ষে পাঁচ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার, আইসিইউ ও সিসিইউ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়িয়ে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্রাম ও ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করতে রেজিস্টার্ড স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। শহর এলাকায় প্রতিটি ওয়ার্ডে নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র বা জিপি সেন্টার কার্যকর করার পাশাপাশি টেলিমেডিসিন ও রেফারেল সিস্টেম চালু করা হবে।

স্বাস্থ্যখাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকারি হাসপাতালসহ সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের আর্থিক হিসাব পাবলিক ওয়েবসাইটে প্রকাশ এবং ক্রয় প্রক্রিয়ায় ই-জিপি চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে কমিশন বাণিজ্য ও অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধে আইন ও কঠোর মনিটরিং কার্যকর করা হবে।

ইশতেহারে নারীদের ও শিশুর চিকিৎসায় অগ্রাধিকার, প্রবীণদের বিশেষ সেবা, দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের হোমকেয়ার, রিহ্যাবিলিটেশন ও প্যালিয়েটিভ কেয়ার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। প্রবাসীদের জন্য দেশীয় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা সহজ করার কথাও উল্লেখ আছে।

জামায়াতের নেতারা বলেন, “স্বাস্থ্যসেবা বাণিজ্যের পণ্য নয়, এটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। পরিকল্পিত বিনিয়োগ, জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা ও সুশাসনের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যখাতকে জনগণের আস্থার জায়গায় ফিরিয়ে আনা হবে।”