জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি)  আরিফুর রহমান নামক এক শিক্ষার্থী  সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রোপাগাণ্ডামূলক খবর প্রকাশ করার ফলে মানহানি ও সামাজিকভাবে হেনস্থার বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য মাননীয় প্রক্টর বরাবর অভিযোগ করেন।

আজ (৯ ফেব্রুয়ারি )  মাননীয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলমের কাছে পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ আসাদুজ্জামান এই অভিযোগপত্র দায়ের করেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, “জনাব, সম্মানপূর্বক নিবেদন এই যে, আমি মোঃ আসাদুজ্জামান, পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিয়া বিভাগ, ৪৮তম ব্যাচ। গত ৬ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে হিম উৎসবে পবিত্র কোরআনের সূরা আন-নাস অবমাননা কে কেন্দ্র করে তাৎক্ষণিক যে উত্তেজনা তৈরি হয়, সেখানে আমরা উপস্থিত ছিলাম। আয়োজকদের সাথে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে আরিফুর রহমান (সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, ৫২ ব্যাচ) নামের তথাকথিত সাংবাদিক মারমুখী হয়ে রাব্বির (পরিবেশ বিজ্ঞান ৪৮) কলার ধরে তার পরিচয় জানতে চায়। সেখানে তার সাংবাদিক সুলভ কোনও আচরণ দেখা যায়নি। পরবর্তী তে রাব্বিকে হিম উৎসব আয়োজকরা শহীদ মিনারের দিকে নিয়ে যায়। সেখানে সহকারী প্রক্টর আব্দুর রাজ্জাক স্যার সহ প্রশাসন এসে ভিডিও ফুটেজ দেখতে চাইলে তৎক্ষণাৎ আরিফুরের কাছে ফুটেজ দেখতে চাওয়া হয় তার কাছে ক্যামেরা থাকার কারণে। পরবর্তীতে আরিফুর নিজের কাছে কোন ফুটেজ নেই বলে দাবি করে। এমতাবস্থায় রাব্বি সাদি কে সনাক্ত করে বলেন যে “তুমি তো মার মুখী হয়ে আমাকে পরিচয় জিজ্ঞেস করেছ, আমি বহিরাগত কিনা জিজ্ঞেস করেছ, আর তখন তোমার কাছে ক্যামেরা ওপেন ছিলো এখন ফুটেজ দেখাও”। এরপরও সে দেখাতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে সেখানে থাকা সবাই ওকে ওর ফোনের ফুটেজ দেখাতে বলে এবং সেখানে আমরা পাশেই উপস্থিত ছিলাম। পরবর্তীতে সাদি ফুটেজ না দেখানোয় আমরা সেখান থেকে চলে যাই।

তার কিছুক্ষণ পরই আরিফুর অন্য কাওকে না চিনতে পারায় শুধু আমাদের চিনতে পেরে আমাদের নাম মেনশন করে মোবাইল ফোনে কাউকে নালিশ দিচ্ছিলো। আমরা এটা শুনে তার কাছে যাই। পরবর্তীতে আরিফুরের সাথে থাকা ওর সিনিয়র, জুনিয়র ব্যাচমেট দের উপস্থিতিতে এটা একটা মিসআন্ডারস্ট্যান্ডিং হয়েছে বলে ২ পক্ষই ব্যপারটা সমাধান করে চলে আসি। সেখানে কোন মারধর বা কোনও অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেনি।

আরো বলা হয়, “পরবর্তীতে গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রায় ২ দিন পর সে আমাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ দেয় এবং এই ঘটনার এর উপর ভিত্তি করেই সে তার সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে আমাদের বিরুদ্ধে প্রোপাগাণ্ডামূলক খবর প্রকাশ করায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সে আমাদের মানহানি এবং সামাজিক ভাবে হেনস্তার সম্মুখীন করছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে রঙ মাখিয়ে ঘটনা বর্ণণা করছে, যা সবৈর্ব মিথ্যা। এর মাধ্যমে আমরা সামাজিকভাবে হেনস্তার শিকার হচ্ছি।

সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে এভাবে মানহানির ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীর জন্যও হুমকিস্বরূপ। কেননা, এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।