মেধা ও একাডেমিক কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব বিজ্ঞান স্কুলভুক্ত সাতটি ডিসিপ্লিনের সাতজন শিক্ষার্থী ডিন’স অ্যাওয়ার্ড লাভ করেছেন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র তুলে দেওয়া হয়।
ডিন’স অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত ২০২০ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা হলেন—
এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের ইশরাত জাহান ঈশিতা (সিজিপিএ ৩.৯৭),
বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের মো. আশিক মোস্তফা (সিজিপিএ ৩.৮৫),
এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ডিসিপ্লিনের আব্দুল্লাহ বিন ফিরোজ (সিজিপিএ ৩.৮৯),
ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের নুসরাত জাহান (সিজিপিএ ৩.৯৫),
ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের আকসা ইভা দরথী (সিজিপিএ ৩.৭৬),
ফার্মেসি ডিসিপ্লিনের মো. মোহাইমিনুল ইসলাম (সিজিপিএ ৩.৯৬) এবং
সয়েল, ওয়াটার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ডিসিপ্লিনের সারিয়া আফরিন (সিজিপিএ ৩.৮৫)।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, ডিন’স অ্যাওয়ার্ড শিক্ষার্থীদের মেধা ও অধ্যবসায়ের স্বীকৃতি। এই অর্জনে শিক্ষক ও অভিভাবকরাও গর্বিত। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ভবিষ্যত জীবনেও শিক্ষার্থীরা তাদের মেধার বিকাশ অব্যাহত রাখবে।
উপাচার্য আরও বলেন, গত এক বছরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে স্কলারশিপ প্রদান, টিএ নিয়োগ এবং কোলাবরেটিভ রিসার্চ গ্র্যান্ট চালুসহ সময়োপযোগী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে।
বর্তমানে গবেষণায় প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি গবেষণায় উৎকর্ষ অর্জন করতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয় আরও শক্ত অবস্থানে পৌঁছাবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কো-কারিকুলার কার্যক্রম ও সফট স্কিলে দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল আহসান বলেন, ডিন’স অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিবেশে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে। ভবিষ্যতেও তাদের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনর রশীদ খান বলেন, ডিন’স অ্যাওয়ার্ড শিক্ষার্থীদের জন্য বড় অর্জন হলেও শুধু সিজিপিএকেই যেন চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে বিবেচনা না করা হয়, সে বিষয়েও সচেতন থাকা প্রয়োজন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নূরুন্নবী বলেন, মেধা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে অর্জিত এই স্বীকৃতি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের জন্যও গর্বের বিষয়। ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পেশাগত জীবনেও তারা এই মেধার স্বাক্ষর রাখবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।
জীব বিজ্ঞান স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. মো. গোলাম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অর্গানাইজিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুর রউফ। আরও বক্তব্য দেন এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের সিনিয়র শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. ইয়াছিন আলী।
অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে অনুভূতি প্রকাশ করেন সয়েল, ওয়াটার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ডিসিপ্লিনের সারিয়া আফরিন ও বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের মো. আশিক মোস্তফা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সয়েল, ওয়াটার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ডিসিপ্লিনের প্রভাষক শারমিন সুলতানা।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্কুলের ডিন, সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিন প্রধান, শিক্ষকবৃন্দ, অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:০৭ অপরাহ্ণ