কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা উত্তেজনা ও হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

শনিবার গভীর রাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের “বড় ধরনের যুদ্ধ অভিযান” শুরু হয়েছে। একই দিনে তেহরানসহ ইরানের একাধিক শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-র তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় একাধিক দফা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এসব হামলাকে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের অভিযানের লক্ষ্য ইরানে ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীর কাঠামো দুর্বল করা।

যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্বার্থ লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানে।
কাতার, কুয়েত ও বাহরাইন-এ অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা সূত্র বলছে, এসব হামলার ফলে চার দেশে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে এবং জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সব স্বার্থ এখন ইরানের হামলার বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। বিশ্লেষকদের মতে, পাল্টাপাল্টি হামলার এই ধারাবাহিকতা মধ্যপ্রাচ্যকে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পর কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলায় সংঘাত আঞ্চলিক রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে, যা গোটা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাকে নতুন করে ঝুঁকিতে ফেলছে।