বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ব্যস্ত সময়সূচিতে ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট আর পরীক্ষার চাপের ভিড়ে ‘ছুটি’ যেন এক টুকরো স্বস্তি। আর সেই স্বস্তিকে আরও অর্থবহ করে তোলে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগমন।

পরিবার থেকে দূরে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য ঈদ মানেই আপনজনের কাছে ফেরার আনন্দ। দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তির মাঝেও প্রিয় মুখগুলো দেখার অপেক্ষা এই সময়টাকে করে তোলে বিশেষ।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের এমন অনুভূতির কথাই তুলে ধরেছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক মিজানুর রহমান।

ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের আবুল হাসনাত জানান- ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। ঈদের সবচেয়ে বড় পাওয়া, পরিবারের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগ করা। কিন্তু বাস্তবতাকে সামনে রেখে প্রবাসীরা পরিবারের সাথে হয়তো ঈদ কাটাতে পারছেনা। বাড়িতে এতো মেহমানের মধ্যে আমরা হয়তো সেই প্রবাসী আত্মীয় স্বজনকে ভুলে যায়। তাদের খোজ নেওয়া হয়না। চলুন এই ঈদে আমরা দেশের আত্মীয় স্বজনের খোজ খবর তো নিবো,পাশাপাশি প্রবাসী আত্মীয় স্বজনের খবরও নিবো ইনশাআল্লাহ। সবাইকে ঈদ মোবারক।

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আছমা আকতার বলেন- দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনা ও ইবাদতের পর ঈদ আমাদের মাঝে নিয়ে আসে এক অনাবিল প্রশান্তি।

একমুঠো হাসি আর শিকড়ের টানে প্রিয়জনদের কাছে ফিরে যাওয়া। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের জন্য ঈদের ছুটি মানেই যান্ত্রিক রুটিন, অ্যাসাইনমেন্ট আর ব্যস্ত জীবনের চার দেয়াল থেকে মুক্তি। ঈদ শুধু উৎসব নয়, এটি আমাদের নৈতিকতার শিক্ষাও দেয়।

ছুটি শেষে সবাই আবার নিজ গন্তব্যে ফিরে যাক এক নতুন উদ্যম, প্রেরণা আর বুকভরা আশা নিয়ে। সবার ঈদ হয়ে উঠুক আনন্দময়, সুন্দর ও মধুময়।

ম্যানেজমেন্ট বিভাগের জান্নাতুল বাকিয়া বলেন,

স্কুল-কলেজ জীবনে অনেক ঈদ উদযাপন করলেও রাবিপ্রবির প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে এটি আমার প্রথম ঈদ। রমজানের শুরু থেকে ক্যাম্পাসে শিক্ষক ও বড় ভাই-বোনদের সাথে ইফতার মাহফিলের আয়োজন আমাদের মাঝে এক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি তৈরি করেছে, যা আমার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
​

রোজার আত্মশুদ্ধি ও ধৈর্যের শিক্ষা শেষে পরিবারের সাথে একত্রিত হয়ে ঈদ উদযাপনের আনন্দই দ্বিগুণ। সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ঈদ আমার জীবনে এক অনন্য প্রাপ্তি। নতুন জামা মিষ্টি হাসি, অপেক্ষার প্রহর শেষে ঘরে ফিরে আসি।

ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের হিয়া ত্রিপুরা জানান,

দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল-ফিতর। বছর ঘুরে ঈদ আসে আনন্দের বার্তা নিয়ে। সেই সাথে শেষ হতে যাচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। ভাবতেই মনটা কেমন উদাস হয়ে উঠে। আমি ছোটবেলা থেকেই বড় হয়েছি ইসলাম ধর্মাবলম্বী বন্ধুদের সাথে। তাই ঈদের আমেজটা আমার মধ্যেও ছিলো। নতুন জামা, বন্ধুদের সাথে ঘুরাঘুরি, গেট টুগেদার এসবের মাধ্যমেই ঈদ উদযাপন হয়। বয়স বাড়লেও আনন্দ হারিয়ে যায় না।

এখন ঈদ উদযাপনের ধরন অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে। আতশবাজি, ঈদ কার্ডের প্রচলন কমে গেছে। শ্রমিক ও কর্মজীবী মানুষের ক্ষেত্রে বেতন-বোনাস, কাজের চাপ ও যাত্রার ভোগান্তি আনন্দ কমিয়ে দেয়। তবুও সবার চাওয়া

—”স্বপ্ন যাবে বাড়ি আমার”।
ঈদের প্রধান আকর্ষণ সালামি। দূরে থাকলেও এই দিনে একত্রিত হওয়ায় বন্ধন অটুট থাকে। ঈদ শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়—সম্প্রীতি ও মানবিকতার এক সুন্দর উপলক্ষ।

ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান বলেন,
‎

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে দেশজুড়ে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। তার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, টিউশন, প্রেজেন্টেশন ও অ্যাসাইনমেন্টের ব্যস্ততা পেছনে ফেলে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে মুখিয়ে আছে শিক্ষার্থীরাও। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে যেমন উচ্ছ্বাস, তেমনি রয়েছে ব্যস্ততা ও কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জ।‎

বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়, সড়কে বাড়তি যানবাহন তার মধ্যে টিউশনের টাকা দিয়ে নতুন পোশাক কিনা, ঈদ শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি মানুষের মাঝে ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও একতার বার্তা ছড়িয়ে দেয়।
‎