উৎসবমুখর পরিবেশে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়েছে। ২৫ মার্চ দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে ট্রাম্পেট ও বিউগল বাজানোর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০ টায় স্বাধীনতা স্মৃতি মুর্যালে পুস্পমাল্য অর্পণ করার মাধ্যমে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান, উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিনসহ অন্যন্য শিক্ষকবৃন্দ।
এরপর সকাল সাড়ে ১০ টায় স্মৃতি মুর্যাল চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে শেষ হয়।
এরপর সকাল ১১ টায় উপাচার্য দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দীর সঞ্চালনায় ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান ও বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন। এছাড়াও চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আল-ফোরকান বলেন, ‘‘ইতিহাসের বিভিন্ন অংশ আপনাদের মাঝে উপস্থাপিত হয়েছে। ২৬ শে মার্চে বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান স্বাধীনতার মহানায়ক ও স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। তিনি সর্বপ্রথম বলেছিলেন, ‘আমি মেজর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করলাম। এটাই ছিল স্বাধীনতার মূলমন্ত্র। এটাই ঝিমিয়ে পড়া বাঙালিকে নতুন করে উজ্জীবিত করেছিল।’’
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন বলেন, ‘‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার, এ তিনটি উদ্দেশ্য সামনে রেখে আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়েছিল এবং বিজয় অর্জন করেছি। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মুক্তিযুদ্ধের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে ৯০ এ স্বৈরাচার আন্দোলন এবং ২৪ এ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আমাদের রক্ত দিতে হয়েছে। স্বাধীনতার এত বছর পরও জাতি হিসেবে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকতে না পারার কারণে স্বাধীনতার আসল উদ্দেশ্য পূরণ হয়নি।’’
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘‘আজকে মহান স্বাধীনতা দিবস। এই স্বাধীনতা দিবসের পেছনে আমাদের একটা মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল। সেটি কিন্তু স্বাধীনতা যুদ্ধ নয়, সেটি ছিল মুক্তিযুদ্ধ। আমাদের স্বাধীনতার মধ্যে একটা মুক্তি জড়িত আছে। এজন্য আমরা মুক্তির জন্য লড়াই করেছি। এদেশের প্রত্যেক মানুষ মুক্তির জন্য লড়াই করেছে। কিন্তু এই মুক্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র নিয়ে বারবার ষড়যন্ত্র হয়েছে। আমরা এক্যবদ্ধ হতে পারিনি। আমরা মুক্তিযুদ্ধকে পরিপূর্ণভাবে ধারণ করতে পারিনি। আমাদের মাঝে একটা বিভক্তি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।’’
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ