গণমাধ্যমকে বলা হয় সমাজের দর্পণ, সমাজের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনে সহায়তা করাই গণমাধ্যমের প্রধানতম কাজ।

রাষ্ট্র এবং জনগণের মাঝে সেতুবন্ধন সৃষ্টি করাও গণমাধ্যমের অন্যতম উদ্দেশ্য। রাষ্ট্র পরিচালনায় রাষ্ট্রযন্ত্র তথা সরকারকে সঠিক দিক নির্দেশনা প্রদান এবং সমাজের বিদ্যমান ব্যবস্থাকে জনকল্যাণমূখী করতেও গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এজন্যই গণমাধ্যমকে রাষ্টের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের মতে, ‘‘কোনো দেশে স্বাধীন গণমাধ্যম থাকলে সে দেশে দুর্ভিক্ষ হানা দিতে পারে না।’’

গণতন্ত্রের সুরক্ষায় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণই ক্ষমতার মূল উৎস, আর সেই জনগণকে সঠিক ও নিরপেক্ষ তথ্য পৌঁছে দেওয়ার প্রধান মাধ্যম হলো সংবাদপত্র। সংবাদপত্র স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারলে সরকারের কার্যক্রম, নীতি ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জনগণ অবগত হতে পারে এবং প্রয়োজন হলে সমালোচনার মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়। এতে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও অন্যায় সহজে প্রকাশ পায়।

অপরদিকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সীমাবদ্ধ হলে সত্য গোপন থাকে এবং জনগণ সঠিক তথ্য থেকে বঞ্চিত হয়, যা গণতন্ত্রকে দুর্বল করে। তাই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও টেকসই রাখতে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।