রাজপথের আন্দোলন, কারাগারের অন্ধকার আর অজানা গন্তব্যে হারিয়ে যাওয়ার ভয়—সব মিলিয়ে এক দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের গল্প। সেই অভিজ্ঞতাকেই শক্তিতে রূপ দিয়ে এবার কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর রাজনীতিতে সক্রিয় এই নেতা নিজেকে ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মী হিসেবে তুলে ধরছেন।
‎
‎দলীয় একাধিক সূত্র বলছে, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠনকে ঘিরে ভেতরে ভেতরে আলোচনা জোরদার হয়েছে। সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় যেসব নাম ঘুরছে, তার মধ্যে বাসিত এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা, রাজপথে সক্রিয় উপস্থিতি এবং তৃণমূল পর্যায়ে যোগাযোগ—এসব কারণে তাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
‎
‎নিজের রাজনৈতিক পথচলার কঠিন সময়গুলোর কথা তুলে ধরে বাসিত বলেন, “১৫০০ দিনেরও বেশি সময় কারাগারে কাটিয়েছি। টানা ১১ মাস বন্দী থাকা, ১৩ দিনের গুম—প্রতিটি দিন ছিল অনিশ্চয়তা আর লড়াইয়ের। ১৫টিরও বেশি মামলার বোঝা নিয়েও কখনো ভেঙে পড়িনি।” তার দাবি, এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
‎

সংশ্লিষ্টরা জানান, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে বাসিতের। পাশাপাশি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ছাত্ররাজনীতিতেও তার সক্রিয় ভূমিকা তাকে পরিচিত মুখে পরিণত করেছে। সংগঠনের ভেতরে তরুণ নেতৃত্বের চাহিদা বাড়ার প্রেক্ষাপটে তার মতো নেতাদের সামনে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও মনে করছেন অনেকেই।

‎
‎রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে ছাত্রসংগঠনের নেতৃত্ব নির্ধারণে ত্যাগ, সহনশীলতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টিকে থাকার অভিজ্ঞতা নেতাকে আলাদা করে তুলে ধরে—এই বাস্তবতায় বাসিতের অতীত তাকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
‎

তবে এখনো ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। দলীয় হাইকমান্ড পরিস্থিতি বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানা গেছে।

‎