খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মৌমিতা হালদার সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার ঘটনায় দোষীদের গ্রেপ্তার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষার্থী মৌমিতা হালদার সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার ঘটনায় দোষীদের গ্রেপ্তার ও নিরাপদ সড়কের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশে এই দাবি জানানো হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন  ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এতে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকরাও  অংশ নেন।

সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তৌকির জোয়ার্দার বলেন, দুর্ঘটনার পর রাতেই আমরা বিক্ষোভ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু ১২ ঘণ্টা পার হলেও দোষীদের খুঁজে বের করা হয়নি। তিনি বলেন, আমাদের দ্বিতীয় দাবি ছিল লাইসেন্সবিহীন সব ধরনের যানবাহন বন্ধ করা। নগরীতে যানবাহনে প্রশিক্ষিত চালক না থাকলে এ ধরনের দুর্ঘটনা কমবে না।

আমরা চাই এই অন্যায় ও অনিয়ম বন্ধ হোক।

চতুর্থ বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী রেজওয়ানুল হক রাদ বলেন, আমরা এমন একটি রাষ্ট্রে বসবাস করি, যেখানে বাসা থেকে বের হওয়ার পর আমরা অনিশ্চিত থাকি যে বাসায় ফিরতে পারব কিনা। এত মানুষ সংসদে গেল, কিন্তু সাধারণ মানুষের কথা কেউ বলে না। ঈদের যাত্রায় এত মানুষের প্রাণ ঝরে গেল, অথচ সড়ক প্রতিমন্ত্রী বলেছেন এবারের ঈদযাত্রা সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল হয়েছে।

মৌমিতার সহপাঠী মেহরাফ হোসেন বলেন, কারা এই দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে আমরা জানি না। একটি প্রাইভেট কার ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কিনা, সেটাও জানি না। রাস্তাঘাট ও ফুটপাতের বর্তমান অবস্থা এবং যানজট সব মিলিয়ে সড়কে আমাদের  নিরাপত্তা অনিশ্চিত। আমরা চাই এই দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং দোষীদের বিচার নিশ্চিত করা হোক।

আইন ডিসিপ্লিনের শিক্ষক তানিয়া সুলতানা বলেন, আমার ছাত্রী প্রাণ হারিয়েছে কথাটি ভুল; আমার ছাত্রীর প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এটিকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখে থেমে গেলে চলবে না। আমরা বারবার বলি ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলছে, এসবের অনুমোদন কে দিয়েছে? প্রশাসন কী করছে? তারা কি নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে? কোন প্রাইভেট কার ধাক্কা দিয়েছে, কী ঘটেছিল তা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বের করতে হবে। আমরা আর কোনো মৌমিতাকে হারাতে চাই না।

আইন ডিসিপ্লিনের প্রধান পুনম চক্রবর্তী বলেন, পৃথিবীতে সবচেয়ে ভারী বোঝা হলো বাবা-মায়ের কাঁধে সন্তানের লাশ, আর শিক্ষকের কাঁধে শিক্ষার্থীর লাশ। আমি রাষ্ট্র ব্যবস্থার কাছে দাবি জানাচ্ছি, আর কোনো প্রাণ যেন এভাবে কেড়ে না নেওয়া হয়। আমরা ন্যায়বিচার চাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. নাজমুস সাদাত বলেন, আমরা অনেক দিন ধরে একটি অব্যবস্থাপনার মধ্যে আছি। বর্তমানে একটি গণতান্ত্রিক সরকার এসেছে। সড়কে এখনো অনেক দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা আশা রাখছি, আর আমাদের মৌমিতাদের হারাতে না হয়। দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আমাদের কাজ করতে হবে। আমাদের একমাত্র চাওয়া নিরাপদ সড়ক।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, আমরা এই মৃত্যুতে গভীরভাবে ব্যথিত। তোমরা যদি সোচ্চার থাকো, তবে ন্যায়বিচার পাওয়া সম্ভব।  খুবির শিক্ষার্থীরা সবসময় সোচ্চার থাকলে নগরবাসীর জন্যও তা কল্যাণকর হবে।

গতকাল সোমবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যায় খুলনা মহানগরে জেলা পরিষদ ভবনের সামনে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মৌমিতা হালদার (২৬) নিহত হন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী