বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ ব্রয়লার মাংস উৎপাদন ও এর পুষ্টিগুণ নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ কর্মশালা।
বুধবার (১৩ মে) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন অনুষদের ডিন কনফারেন্স হলে “ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ ব্রয়লার মাংস: সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য একটি পুষ্টিকর উদ্যোগ” শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বাকৃবির কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক এবং বাউরিকের প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আওয়াল। প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাউরিকের আরএলসি কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দকার মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং পশুপালন অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মো. রুহুল আমিন। এছাড়াও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এনিমেল নিউট্রিশন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শফিকুর রহমান শিশির।
তিনি জানান, বর্তমানে বাজারে প্রচলিত ব্রয়লার মাংসে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ কম থাকায় হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস এবং শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তিনি বলেন, গবেষণার মাধ্যমে ব্রয়লার খাদ্যে ফ্ল্যাক্সসিড ও মাইক্রোঅ্যালগির মতো ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ উপাদান যুক্ত করে মাংসের পুষ্টিমান বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে মাংসের স্বাদ ও গুণগত মান বজায় রেখেই স্বাস্থ্যকর ব্রয়লার উৎপাদন সম্ভব হবে বলে আশা করছেন গবেষকরা।
গবেষণা প্রকল্পটির শিরোনাম ‘বৃহৎ পরিসরে ব্রয়লার উৎপাদনের জন্য খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও সময় নির্ধারণের বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ ব্রয়লার মাংসের মানোন্নয়ন’। এক বছর মেয়াদি এ গবেষণায় প্রধান গবেষক হিসেবে কাজ করছেন ড. মো. শফিকুর রহমান শিশির। সহযোগী গবেষক হিসেবে রয়েছেন এনিমেল সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ মোর্শেদ, এনিমেল নিউট্রিশন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. অলিয়ার রহমান এবং আপিজ সেইফ ফুড এগ্রো লিমিটেডের মোহাম্মদ আহসান হাবীব।
গবেষণাটির প্রকাশনায় রয়েছে বাকৃবি রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টার (বাউরিক)। প্রকল্পটিতে অর্থায়ন ও তত্ত্বাবধান করছে বিশ্বব্যাংক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, ইনহেন্সিং ডিজিটাল গভর্নমেন্ট অ্যান্ড ইকোনমি (ইডিজিই) এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল।
ড. শিশির আরও জানান, বর্তমানে বাজারে ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাংসের দাম তুলনামূলক বেশি। তাই সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে এ ধরনের পুষ্টিকর মাংস পৌঁছে দিতে কম খরচে উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, “গবেষণা শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বাস্তবক্ষেত্রে তার কার্যকারিতা থাকতে হবে। গবেষণার ফলাফল যেন উৎপাদন ব্যবস্থা, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, টেকসই ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে এ ধরনের গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যতে দেশের পোল্ট্রি শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ