পবিত্র হজ ২০২৬ উপলক্ষে আরাফাতের ঐতিহাসিক খুতবা প্রদান করবেন শায়খ আলি বিন আবদুল রহমান আল-হুদাইফি। সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের অনুমোদনের পর তার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে পবিত্র দুই মসজিদের ধর্মবিষয়ক পরিষদ। আগামী ৯ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি, অর্থাৎ ২৬ মে ২০২৬ আরাফাতের মসজিদে নামিরায় হজের মূল খুতবা দেবেন তিনি।

সোমবার (৮ জিলহজ) সকাল থেকে মিনায় অবস্থানের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা। বিশ্বের লাখো মুসল্লির সঙ্গে বাংলাদেশ থেকেও অংশ নিচ্ছেন প্রায় সাড়ে ৭৮ হাজার হাজী। হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুকন আরাফাতে অবস্থানের দিন শায়খ আলী আল-হুদাইফির খুতবা ঘিরে মুসলিম বিশ্বে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।

পবিত্র দুই মসজিদের ধর্মবিষয়ক পরিষদের প্রধান শায়খ ড. আবদুর রহমান আল-সুদাইস জানান, সৌদি বাদশাহ এবং যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশনায় শায়খ আলী আল-হুদাইফিকে আরাফার খুতবা ও নামাজের ইমামতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

কে এই শায়খ আলী আল-হুদাইফি?

১৯৪৭ সালের ২২ মে সৌদি আরবের মক্কা প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন শায়খ আলী আল-হুদাইফি। তিনি ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সৌদ ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে শরিয়াহ বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামি আইনে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৭৯ সাল থেকে তিনি মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৮১ সালের রমজানে মসজিদুল হারামেও তারাবির নামাজে ইমামতি করেন তিনি। এছাড়া ১৯৮৭ সালে কিছু সময়ের জন্য কুবা মসজিদের খতিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

সুললিত, হৃদয়গ্রাহী ও শুদ্ধ কোরআন তেলাওয়াতের জন্য শায়খ আলী আল-হুদাইফি মুসলিম বিশ্বে অত্যন্ত সমাদৃত। তার কণ্ঠে তেলাওয়াত ও খুতবা বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান নিয়মিত অনুসরণ করেন।

শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করাই হজের মূল রুকন। খুতবার পর হাজীরা একসঙ্গে যোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতে অবস্থান করবেন। এরপর মুজদালিফা হয়ে মিনায় ফিরে হজের বাকি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন তাঁরা।