জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নিরাপত্তা কর্মকর্তা খন্দকার আবু সাইদ জিন্নাহর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামিলীগের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক এক্টিভিজম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তার এমন কর্মকাণ্ড তার পেশাগত নিরপেক্ষতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীদের একাংশ।
অভিযোগ রয়েছে, ফ্যাসিস্ট আমলে নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পাওয়া খন্দকার আবু সাইদ জিন্নাহ পূর্বে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত বিএনপি সরকারের সমালোচনামূলক পোস্ট করেন এবং আওয়ামী লীগপন্থী বিভিন্ন ব্যক্তি ও নেতাকর্মীর পোস্টে সমর্থনসূচক মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া জানান। একইসাথে জুলাইপন্থি বিভিন্ন ব্যক্তিত্বদের কমেন্টের মাধ্যমে হুমকি দেন।
এছাড়া, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং ছাত্রলীগের কাছে বিভিন্ন তথ্য সরবরাহ করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে জাবি ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মেহেদী হাসান মজুমদার বলেন, “জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ঘাটতির পেছনে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের ভূমিকা থাকতে পারে। ফ্যাসিস্ট আমলে যেসব নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, তাদের মাধ্যমেই এখনো প্রশাসন পরিচালিত হচ্ছে। তাদের যোগসাজশে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ একের পর এক কর্মসূচি পালন করছে। পুরো ক্যাম্পাস সিসিটিভির আওতায় থাকার পরও কার সহযোগিতায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ পোস্টার সাঁটিয়েছে, তা তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। আমরা আশা করি প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখবে।”
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও জাকসুর কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতী বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্টের মাধ্যমে আমাদের সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে যে তিনি এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারেন। তবে তিনি প্রকৃতপক্ষে সম্পৃক্ত কি না, সেটি তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। এ বিষয়ে আমরা আগেও প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছি এবং এখন আরও জোরালোভাবে সেই দাবি পুনর্ব্যক্ত করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ব্যক্তির অবস্থান উদ্বেগজনক। তাই বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অপসারণ করে তাদের স্থলে যোগ্য, নিরপেক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে, যারা কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদী শক্তির প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করবেন না।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে খন্দকার আবু সাইদ জিন্নাহ বলেন, “এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান বলেন, ” আমাদের মধ্যে আলোচনা শেষে একটি প্রসিডিং প্রকাশ করা হবে। সেই প্রসিডিং প্রকাশের পরই প্রকৃতপক্ষে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে জানা যাবে।”
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ৭:২৫ অপরাহ্ণ