চট্টগ্রামে খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে বিভিন্ন অনিয়ম ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়ার পর নিরাপদ খাদ্য আদালতের ভ্রাম্যমাণ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও জোরদার করার দাবি জানিয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

রবিবার (২১ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত ও কঠোর তদারকির বিকল্প নেই। তাই ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ ধরনের অভিযান ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা প্রয়োজন।

গত ২০ জুন নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে কয়েকটি খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে। অভিযানে আবুল খায়ের ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, মধুবন সুইটস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং ময়মনসিংহ এগ্রোতে খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়।

অভিযানে খাদ্যদ্রব্য প্রক্রিয়াকরণে প্লাস্টিকজাত ক্ষতিকর উপাদানের ব্যবহার, চানাচুর, চিড়া ও বুট উৎপাদনে পোড়াতেলের ব্যবহার, উৎপাদন এলাকায় বর্জ্য সংরক্ষণ, মানসম্মত মোড়কীকরণে অনিয়ম, বিভ্রান্তিকর তথ্য সংযোজন এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ম্যাংগো ফ্রুট পাল্প সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের মতো নানা অসঙ্গতি চিহ্নিত হয়।

এছাড়া পোকামাকড়ের অবাধ বিচরণ থাকা পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, নিম্নমানের খাদ্যপণ্য প্রস্তুত, বর্জ্য পদার্থের অনিয়মিত ব্যবহার, খাদ্য স্পর্শক হিসেবে খোলা কাগজ ও খবরের কাগজের ব্যবহার, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের ঘটনাও ধরা পড়ে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও নিরাপদ খাদ্য আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোস্তফা। এ সময় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা, পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ক্যাবের কেন্দ্রীয় ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের নেতারা এ ধরনের অভিযানকে সময়োপযোগী ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট বিচারক ও কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তারা মাঠপর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সংখ্যা ও কার্যক্রম আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, খাদ্যে ভেজাল, নিম্নমানের পণ্য উৎপাদন এবং ভোক্তা প্রতারণার ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে চললেও কার্যকর তদারকির অভাবে অনেক ক্ষেত্রে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে।

ক্যাব নেতারা আরও বলেন, চট্টগ্রামে নিরাপদ খাদ্য আদালতের সরেজমিন অভিযান জনমনে ইতিবাচক সাড়া সৃষ্টি করেছে। আদালতের গণ্ডির বাইরে গিয়ে মাঠপর্যায়ে এমন কার্যক্রম পরিচালনা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের জন্যও অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে।

পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিচারিক তৎপরতা সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।