প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম রাষ্ট্রীয় ও দ্বিপাক্ষিক মালয়েশিয়া সফরে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, শ্রমবাজার, প্রযুক্তি, শিক্ষা, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ ৯টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। সফর শেষে যৌথভাবে ৩৩ দফার একটি বিবৃতিও প্রকাশ করা হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) কুয়ালালামপুরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্‌দী আমিন এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যে একান্ত, সীমিত এবং প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দুই দেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও সম্মত হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক নিয়োগ পুনরায় চালু, অভিবাসন ব্যয় কমানো, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন কারণে আটক বা অবৈধ অবস্থায় থাকা বাংলাদেশিদের বিষয়ে মানবিক সমাধানের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।

এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল অর্থনীতি, সাইবার নিরাপত্তা, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে সংস্কৃতি বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর এবং বিনিয়োগ ও সন্ত্রাস দমন বিষয়ে দুটি এক্সচেঞ্জ অব নোটস বিনিময় হয়েছে বলেও জানান মুখপাত্র।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর কল্যাণ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অংশীদারিত্ব, যৌথ গবেষণা ও কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণেও দুই দেশ একমত হয়েছে।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম সুলতান ইস্কান্দারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। একইসঙ্গে পেট্রোনাস, আজিয়াটা, এয়ারএশিয়া, পার্ডুয়া ও এমএমসি পোর্টসহ মালয়েশিয়ার শীর্ষ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

মাহ্‌দী আমিন বলেন, মাত্র ১৮ ঘণ্টার এই সংক্ষিপ্ত সফরে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।